গ্রীষ্মকাল এলেই শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার সমস্যা বাড়ে। দূষিত জল বা পানীয়ের মাধ্যমে এই পেটের সমস্যা সহজেই ছড়াতে পারে। ডায়রিয়া হলে শিশুরা খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই এসময় তাদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া আবশ্যক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়রিয়া বা ক্রমাগত পাতলা পায়খানার ফলে শিশুর শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) দেখা দিতে পারে। এর ফলে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় এবং শিশু ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে।
ডায়রিয়া কতদিন থাকতে পারে এবং কখন সতর্ক হবেন?
সাধারণত ডায়রিয়া ও বমি তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে শিশুর মলের সঙ্গে রক্ত বা মিউকাস (শ্লেষ্মা) দেখা যেতে পারে। এমন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শরীর থেকে জল ও লবণ বেরিয়ে যেতে থাকলে শিশুর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
পানিশূন্যতার লক্ষণ: শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিলে প্রস্রাবের সমস্যা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, অস্বস্তি ও শুষ্ক ভাব দেখা দেয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা এবং শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক উপসর্গও দেখা দিতে পারে। ডায়রিয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই এসময় শিশুকে দ্রুত স্যালাইন বা ORS, লবণ-চিনি-জলের মিশ্রণ, ডাবের জল এবং অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে খেতে দিতে হবে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? যদি তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শিশুর অবস্থার উন্নতি না হয় বা নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে:
-
বমি অনবরত চলতে থাকলে এবং কোনোভাবেই বমি বন্ধ না হলে।
-
শিশুর বয়স ছয় মাস বা তারও কম হলে।
-
ক্ষুধা মারাত্মকভাবে কমে গেলে এবং গায়ে জ্বর থাকলে।
আপনার প্রধান করণীয়: শিশুকে বাইরের খাবার বাথরুমে যাওয়ার পর, বাইরে থেকে আসার পর এবং খাবার আগে ও পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ানো অভ্যাস করান। প্রতিদিন সাবান ব্যবহার করে গোসল করান। যেসব শিশু মায়ের দুধ পান করে, তাদের বেবি ফুডের বদলে মায়ের দুধই খাওয়ান। পান করার জন্য জল সবসময় ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ব্যবহার করুন। খাবারের পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং ফ্রিজে রাখা খাবার গরম করে পরিবেশন করুন।