প্রতিদিনের জীবনে কমবেশি সকলেরই সিঁড়ি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। অফিস, ওভারব্রিজ, শপিং মল কিংবা নিজের বাসায় লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুললে অজান্তেই মিলবে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। আমাদের ব্যস্ত রুটিনে শরীরচর্চার জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন হলেও, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এনে সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব।
সিঁড়ি দিয়ে উঠলে প্রথম দিকে কিছুটা কষ্ট অনুভব হলেও, এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর কার্ডিওভাস্কুলার ব্যায়াম। সুস্থ থাকতে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়িতে ওঠানামা করার অভ্যাস বেছে নিতে পারেন। নিয়মিত সিঁড়ি ওঠার অভ্যাস থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এছাড়াও, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনে যদি আপনি অন্তত ৪০টি সিঁড়ি ভাঙার অভ্যাস করেন, তাহলে আপনার পায়ের পেশি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠবে। পায়ের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি এই কার্ডিও অ্যাক্টিভিটির ফলে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতাও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে।
তবে সিঁড়ি ব্যবহারের সময় কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। যদি আপনার হাঁটুতে কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে সিঁড়ি ভাঙার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সিঁড়িতে পা রাখার সময় খেয়াল রাখবেন যেন আপনার পুরো পা সিঁড়ির ধাপে থাকে। পায়ের উপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না এবং ধীরে ধীরে ওঠানামা করুন।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা নিচে উল্লেখ করা হলো:
ওজন কমাতে সহায়ক: সিঁড়ি দিয়ে বারবার ওঠানামা করলে শরীরের মেটাবলিজম রেট বাড়ে। উন্নত বিপাক ক্রিয়া আমাদের শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমায়: সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার মতো শারীরিক কার্যকলাপ হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অস্টিওপোরোসিসের (হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া) সম্ভাবনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে: যেকোনো ধরনের শারীরিক কার্যকলাপ আমাদের শরীরের পাশাপাশি মনকেও ভালো রাখতে সাহায্য করে। সিঁড়ি ভাঙার ফলে শরীরে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে সহায়ক।
হৃদয় ও ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায়: সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে আপনার হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি ফুসফুসও সুস্থ থাকে। এর ফলে ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণের এবং কাজ করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই সুস্থ ও সক্রিয় জীবন যাপনের জন্য নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন।