শুনতে খারাপ লাগলেও খুবই সত্যি যে আজকের দিনেও মেয়েদের শারীরিক সমস্যাগুলি নিয়ে সবচেয়ে বেশি অবহেলা তাঁরা নিজেরাই করেন৷ হাজার কষ্ট হলেও মুখ ফুটে অসুবিধের কথা বলেন না, অথবা বললেও তা যথাযথ গুরুত্ব পায় না। একটা কথা মনে রাখবেন, কোনও সমস্যাই কিন্তু রাতারাতি শুরু হয় না। শরীর আপনাকে কোনও না কোনওভাবে সিগনাল দিতেই থাকবে, সেগুলিকে পাত্তা না দিলে সমস্যা জটিলতর হতে পারে। ঠিক কোন কোন বিষয়গুলি দেখলে সচেতন হবেন জানতে চান? ফর্টিস আনন্দপুর হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিকাশ ব্যানার্জি পাঠকদের সুবিধের জন্য কয়েকটি লক্ষণের তালিকা তৈরি করে দিয়েছেন। এর মধ্যে কোনওটি বা বেশ কয়েকটি যদি আপনাকেও বিব্রত করতে আরম্ভ করে, তা হলে দেরি না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন৷
ডা. ব্যানার্জির দেওয়া সেই লক্ষণগুলি হল:
১. মাসিক ঋতুচক্রে অতিরিক্ত রক্তপাত: স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. ঋতুচক্রে অত্যন্ত কম রক্তপাত: একইভাবে, ঋতুস্রাব যদি খুব কম হয়, তবে তার কারণ জানা জরুরি।
৩. তলপেটে ভারীভাব অনুভূত হওয়া: দীর্ঘদিন ধরে তলপেটে অস্বস্তি বা ভারী লাগলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
৪. প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি বা জ্বালাভাব: প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা কষ্ট হলে তা মূত্রাশয় বা অন্য কোনও সংক্রমণ হতে পারে।
৫. ছ’ মাস বা তার বেশি সময় ধরে স্বাভাবিকভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও গর্ভাধান না হওয়া: সন্তান ধারণে সমস্যা হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৬. ডিসমেনোরিয়া হচ্ছে (পিরিয়ডের সময় অস্বস্তি/ পেটব্যথা) এবং যতদিন যাচ্ছে সেটা ক্রমশ বাড়ছে: ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা বাড়লে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
৭. মলত্যাগের সময় যন্ত্রণার অনুভূতি: মলত্যাগের সময় ব্যথা অনুভব করলে তা endometriosis বা অন্য কোনও পেলভিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৮. যৌন অঙ্গ থেকে কোনও ক্ষরণ হচ্ছে এবং তার একটা তীব্র গন্ধ আছে: অস্বাভাবিক ক্ষরণ এবং দুর্গন্ধ সংক্রমণের লক্ষণ, যা চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
৯. স্তনে কোনও লাম্প হয়েছে: স্তনে কোনও চাকা বা লাম্প অনুভব করলে তা ফেলে রাখা উচিত নয়, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
১০. তলপেটে ফোলাভাব দেখা দিয়েছে: হঠাৎ করে তলপেট ফুলে গেলে বা অস্বস্তি হলে তা ডিম্বাশয়ের সিস্ট বা অন্য কোনও সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
ডা. ব্যানার্জি বলছেন, ‘‘শহরের মহিলারা সাধারণত অনিয়মিত ঋতুচক্র বা ঋতুকালীন সমস্যায় বেশি ভোগেন। তা ছাড়া সাদা স্রাব, বন্ধ্যাত্ব বা তলপেটে ভারীভাবের সমস্যাগুলিও থাকে। আমরা বারবার বলি, শরীর স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে গেলেই ডাক্তারের সঙ্গে একবার কথা বলে নিতে, কারণ ঋতুচক্র সংক্রান্ত কিছু সমস্যা কিন্তু কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বা জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলে বা ওজন কমালেই সামলানো যায়।’’
অতএব, নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিন এবং কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার সামান্য সচেতনতাই বড় বিপদ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে।