পেটের এই সাধারণ সমস্যাগুলোই কি ক্যান্সারের লক্ষণ? সময় থাকতে চিনে নিন মারণ রোগের সংকেত!

ক্যান্সারের নাম শুনলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, তবে তা নিরাময় করা সম্ভব। কোলন (বৃহদন্ত্র) বা মলাশয়ের এই ক্যান্সার সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও, বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এর প্রকোপ বাড়ছে। সঠিক সময়ে লক্ষণগুলো চিনতে পারাটাই এখানে বেঁচে থাকার মূল চাবিকাঠি।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি:

মলত্যাগের অভ্যাসে আকস্মিক পরিবর্তন: যদি দেখেন দীর্ঘ সময় ধরে ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা চলছে, অথবা মলের আকার আগের চেয়ে সরু হয়ে গেছে, তবে তা কোলন টিউমারের সংকেত হতে পারে।

মলের সঙ্গে রক্তপাত: মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল বা কালচে রঙের রক্ত যাওয়া কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। একে অনেকেই পাইলস বা অর্শ ভেবে ভুল করেন, যা মারাত্মক হতে পারে।

পেটে অস্বস্তি ও ব্যথা: তলপেটে ক্রমাগত গ্যাস, পেট ফাঁপা বা মোচড় দিয়ে ব্যথা হওয়া এবং মনে হওয়া যে পেট পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি—এমন লক্ষণ অবহেলা করবেন না।

অকারণে ওজন কমে যাওয়া: কোনো ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি হঠাৎ অনেকটা ওজন কমে যায়, তবে বুঝতে হবে শরীরের ভেতরে কোনো সমস্যা দানা বাঁধছে।

অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা: কোলনের ভেতরে টিউমার থেকে ক্রমাগত রক্তপাতের ফলে শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দেয়। এর ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশি?
যাঁদের পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস আছে, যাঁরা অতিরিক্ত রেড মিট (খাসি বা গরুর মাংস) এবং প্রসেসড ফুড খান, ধূমপায়ী এবং যাঁদের ওজন অতিরিক্ত—তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

প্রতিরোধের উপায়:
১. প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি ও ফল) খান।
২. রেড মিট এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৩. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন।
৪. ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে নিয়মিত ‘কলোনোস্কোপি’ স্ক্রিনিং করান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy