হৃদরোগে আক্রান্ত পুরুষদের জন্য এক আশার খবর। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিষয়ক মার্কিন গবেষকদের একটি নতুন গবেষণা বলছে, পুরুষরা যদি তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে বেশি বেশি কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটান, তবে তাদের হৃৎপিণ্ড ভালো থাকবে। এই চমকপ্রদ তথ্যটি লাইভ সায়েন্সের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলটি তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছেন যে, যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, দিনের কিছুটা সময় বের করে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটানো হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে উন্নত রাখতে সহায়ক। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ক্লান্তির সময়েও স্ত্রীর সান্নিধ্যে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং বিষণ্ণতার মধ্যে স্ত্রীর সঙ্গে মনের কথা খুলে বললে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
মার্কিন এই গবেষণা আরও জানিয়েছে যে, সঙ্গীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা এবং ভাবনার আদান-প্রদান শারীরিক দিক থেকেও উপকারী। গবেষকদের মতে, এমন সুযোগ থাকলে একজন পুরুষ প্রায় ৩০টি রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। অন্যদিকে, সঙ্গীর সঙ্গে অতিরিক্ত নেতিবাচক কথাবার্তা ক্যারোটিড আর্টারির পুরুত্বের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ক্যারোটিড আর্টারি ঘাড় থেকে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে এবং হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভিএ গ্রেটার লস অ্যাঞ্জেলস হেলথকেয়ার সিস্টেমের গবেষক নাটারিয়া জোসেফ তার একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে প্রায়শই ঝগড়ায় লিপ্ত থাকেন, তাদের ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় সাড়ে আট শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
গবেষণার জন্য গবেষকরা প্রায় ৩০০ জন মধ্যবয়সী দম্পতির তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের দাবি, আবেগ, ভালোবাসা এবং শারীরিক সম্পর্কের মতো ইতিবাচক সম্পর্ক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। স্ত্রীর সঙ্গে গুণগত সময় কাটানো এবং মনের কথা আলোচনা করা কেবল মানসিক শান্তিই দেয় না, বরং হৃদরোগের মতো মারাত্মক ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করে, এমনটাই মনে করছেন গবেষকরা।