পিঠ ও কোমরের ব্যথায় কমবেশি সবাই ভোগেন। অতিরিক্ত পরিশ্রম কিংবা দীর্ঘক্ষণ এক স্থানে বসে থাকার কারণে ব্যাকপেইন (Backpain) হওয়া সাধারণ ঘটনা। অনেকেই এটিকে গুরুত্ব দেন না, কারণ ঠান্ডা সেঁক কিংবা হালকা স্ট্রেচিংয়েই ব্যথা সেরে যায়। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ব্যাকপেইন কিন্তু ক্যানসারেরও অন্যতম এক লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই পিঠ ও কোমরের ব্যথায় ভুগলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত না হলে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ৩ ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে ব্যাকপেইন হতে পারে:
১. মূত্রাশয় ক্যানসার (Bladder Cancer)
- স্থান: মূত্রাশয় তলপেটের একটি অঙ্গ, যা প্রস্রাব সঞ্চয় করে।
- ব্যাকপেইন: পিঠের নিচের অংশে ব্যথা মূত্রাশয় ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। ইয়েল মেডিসিন অনুসারে, মূত্রাশয়ের গভীরতম টিস্যুতেই সাধারণত টিউমার বড় হতে থাকে।
- গুরুতর লক্ষণ: তলপেটে ব্যথা সাধারণত মূত্রাশয় ক্যানসারের গুরুতর লক্ষণ।
- অন্যান্য লক্ষণ: ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে রক্ত ও প্রস্রাবের সময় ব্যথা।
২. মেরুদণ্ডের ক্যানসার (Spinal Cancer)
- কারণ: স্পাইনাল কর্ড (Spinal Cord) ও মেরুদণ্ডের কলামের ক্যানসারও পিঠের ব্যথার কারণ হতে পারে। যদিও এটি তুলনামূলকভাবে বিরল।
- ব্যাকপেইন: মেরুদণ্ডে টিউমার হলে ব্যাকপেইন হওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং এটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যথা তীব্র হতে পারে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- অন্যান্য লক্ষণ: অসাড়তা, দুর্বলতা, বাহু ও পায়ে দুর্বলতা এবং পক্ষাঘাতও (Paralysis) অন্তর্ভুক্ত।
৩. ফুসফুসের ক্যানসার (Lung Cancer)
- ব্যাকপেইন: ফুসফুসের ক্যানসারের বিভিন্ন লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হলো ব্যাকপেইন। প্রায় ২৫% ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে পিঠে ব্যথা প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে, যা সাধারণত ক্যানসার মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়ার কারণে বা স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করার ফলে ঘটে।
- অন্যান্য লক্ষণ: আপনি যদি পিঠে ব্যথার সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ লক্ষ্য করেন, তাহলে ডাক্তার দেখান। যেমন— কাশিতে রক্ত পড়া, অবিরাম শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি যা আরও খারাপ হয় ও কাশি যা দুই বা তার বেশি সপ্তাহ ধরে থাকে।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ ক্যানসারের ঝুঁকি জীবনধারার (Lifestyle) কারণে ঘটে। ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করতে হবে:
- প্রচুর ফল ও শাকসবজি খেতে হবে নিয়মিত।
- নিয়মিত ব্যায়াম করা।
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।
- ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।