ধূমপান যে হৃদরোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়ায়, তা বিভিন্ন গবেষণায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি করোনারি হার্ট ডিজিজে (সিএইচডি) আক্রান্ত ৩০ শতাংশেরও বেশি রোগীর মৃত্যুর প্রধান কারণ সক্রিয় বা পরোক্ষ ধূমপান। এবার এক নতুন গবেষণায় উঠে এলো আরও ভয়াবহ তথ্য। গবেষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ধূমপানের কারণে হৃদপিণ্ড বড় ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
যদিও ধূমপান ও কার্ডিওভাসকুলার ইনজুরির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র সহজে চোখে পড়ে না, তবে দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান হৃদযন্ত্রের এন্ডোথেলিয়াল ফাংশনের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ধূমপান ও হৃদরোগের যোগসূত্র নিয়ে বহু গবেষণা থাকলেও, এই নতুন গবেষণাটি ধূমপানের কারণে হার্টের গঠনগত পরিবর্তনের উপর আলোকপাত করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সক্রিয় ধূমপায়ী, তাদের হার্টের স্বাস্থ্য দ্রুত অবনতির দিকে যায়। তবে আশার কথা হলো, ধূমপানের আসক্তি ত্যাগ করলে হার্ট ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করে।
গবেষণার প্রধান লেখক, ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের হারলেভ ওজেন্টোফ্ট হাসপাতালের ডা. ইভা হোল্ট জানান, “একজন ধূমপায়ীর হৃদপিণ্ডের বাম নিলয় (left ventricle) রক্তের পরিমাণ কম থাকে এবং সারা শরীরে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “ধূমপান ছেড়ে দিলে খুব দ্রুত হার্টের কার্যকারিতা একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।” ইএসসি কংগ্রেস ২০২২-এ প্রদত্ত একটি প্রতিবেদনেও তিনি একই তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন।
নতুন এই গবেষণায় ধূমপান ছাড়ার প্রভাব এবং ধূমপান কার্ডিওভাসকুলার রোগবিহীন প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদয়ের গঠনগত ও কার্যকারিতার পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে। ২০ থেকে ৯৯ বছর বয়সী মোট ৩ হাজার ৮৭৪ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫৬ বছর এবং তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ছিলেন নারী।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ধূমপান করছেন, তাদের হার্ট তুলনামূলকভাবে বড়, দুর্বল ও ভারী। ডা. হোল্ট বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, ধূমপানের কারণে বাম হার্টের চেম্বারের প্যাক এয়ার (filling), গঠন ও কার্যকারিতার অবনতি ঘটে। এটি আসলে হার্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চেম্বার।” তিনি আরও যোগ করেন, “যাদের প্যাক ইয়ার বেশি, তাদের হার্ট কম পরিমাণে রক্ত পাম্প করতে পারে।” গবেষকরা আরও লক্ষ্য করেছেন, দীর্ঘমেয়াদী ধূমপায়ীদের হৃদপিণ্ড সময়ের সাথে সাথে বড়, ভারী ও দুর্বল হয়ে যায়।
যদি এরপরও ধূমপান ত্যাগ করা না হয়, তাহলে হার্টের কার্যকারিতা এবং রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা ক্রমশ কমতে থাকে। গবেষণায় আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, ধূমপান রক্তসংবহনতন্ত্রের উপর নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি সরাসরি হৃদপিণ্ডের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
তবে এই গবেষণায় একটি আশার আলোও দেখানো হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ধূমপান ছেড়ে দিলে হার্টের যাবতীয় সমস্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ধূমপান ত্যাগ করা শুধু হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতিই ঘটায় না, বরং দীর্ঘ সময়ের জন্য রোগমুক্ত জীবন পেতেও সাহায্য করে। তাই, সুস্থ জীবন যাপনের জন্য ধূমপান ত্যাগ করার কোনো বিকল্প নেই।