আপনিও কি সেই দলে, যারা ওজন কমানোর জন্য ভাত-রুটিকে একেবারে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন? যদি তাই হয়, তবে জেনে রাখুন, এতে কিন্তু লাভের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দীর্ঘ দিন ধরে শরীরকে কার্বোহাইড্রেট থেকে বঞ্চিত রাখলে হঠাৎ করে একদিন মিষ্টি বা ভাতের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। তখন আর লোভ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত পরিমাণে খেয়ে ফেলায় শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হয়, যা ওজন কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দেয়।
তবে চিন্তা নেই, পুষ্টিবিদরা ওজন কমানোর একটি নতুন পদ্ধতির কথা বলছেন – ‘কার্ব সাইক্লিং’।
কার্ব সাইক্লিং আসলে কী?
এই ডায়েট মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত: হাই কার্ব (বেশি শর্করা), লো কার্ব (কম শর্করা) এবং নো কার্ব (শর্করাবিহীন)। আপনার খাদ্যতালিকায় এই তিনটি পর্যায় পর্যায়ক্রমে আসবে। যেদিন আপনি বেশি কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করবেন, সেদিন ফ্যাট ও প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকবে। নো কার্ব ডায়েটের দিন শুধুমাত্র ফ্যাট ও প্রোটিনই থাকবে। আর লো কার্ব ডায়েটের দিন সামান্য পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে মনে রাখবেন, হাই-কার্ব ডায়েটের দিন আপনি ইচ্ছেমতো পিজ্জা-পাস্তা খেতে পারবেন না, কিংবা লো কার্বের দিন শুধু স্যুপ খেয়ে থাকবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের ইচ্ছেমতো এই ডায়েট শুরু করার চেষ্টা করবেন না। প্রতি পদক্ষেপে একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। কার্ব সাইক্লিং শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে এটি ততটা সরল নয়। আপনি সপ্তাহের দিন অথবা মাস অনুযায়ী এই ডায়েট প্ল্যান করতে পারেন। তবে যাই করুন না কেন, প্রথমে অবশ্যই একজন প্রশিক্ষিত পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করে নিন। আপনার শরীর কতটা সহ্য করতে পারবে, তা একমাত্র তিনিই নির্ধারণ করতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী আপনার দৈনিক খাদ্যতালিকা তৈরি করে দেবেন।
এই তালিকা মেনে চললে কী কী খাওয়া যেতে পারে?
এই ডায়েটে সাধারণত ডাল, শাকসবজি এবং ফলমূল আগের মতোই রাখা হয়। লাল চালের ভাত, ভুষিসমেত আটার রুটি, ওটস, জোয়ার, বাজরা, রাগি এবং দালিয়া போன்ற কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটও খাওয়া যেতে পারে। ফলের ক্ষেত্রেও তেমন কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকে না, কারণ মিষ্টি ফলের কার্বোহাইড্রেটও একটি নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় গ্রহণ করা যায়। খাদ্যতালিকায় যত বেশি রঙিন সবজি যোগ করতে পারবেন, তত বেশি পরিমাণে মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যাবে। প্রোটিনের ক্ষেত্রেও সাধারণত কোনও বাধা নিষেধ থাকে না। তবে কোন খাবার কতটা পরিমাণে খাওয়া উচিত, তা পুষ্টিবিদই নির্ধারণ করে দেবেন।
কীভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি?
সঠিকভাবে কার্ব সাইক্লিং শুরু করলে ওজন এবং শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট দুটোই কমতে শুরু করে। যেহেতু এই ডায়েটে কোনও নির্দিষ্ট ফুড গ্রুপ বাদ দেওয়া হয় না, তাই হঠাৎ করে কোনও বিশেষ খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় না। ইনসুলিন, লেপটিন এবং সেরোটোনিনের মতো হরমোনগুলি সঠিকভাবে কাজ করতে শুরু করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে এবং মেটাবলিক অ্যাক্টিভিটিও বৃদ্ধি পায়। তাই এই পদ্ধতি আপনাকে ভেতর থেকে সুস্থ করে তোলে।
সুতরাং, ওজন কমানোর জন্য কার্বোহাইড্রেটকে শত্রু না ভেবে, বরং একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ‘কার্ব সাইক্লিং’-এর মতো একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে দেখতে পারেন।