সামান্য অসুস্থ হলেই আমরা ডাক্তারের কাছে ছুটে যাই, আর প্রায় ক্ষেত্রেই ডাক্তার প্রথমেই অ্যান্টিবায়োটিক লিখে দেন। এই ওষুধ সাধারণত জলের সঙ্গেই খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ ফলের জুস বা দুগ্ধজাত খাবারের সঙ্গে খেলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
শুধু তাই নয়, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় কিছু খাবার একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত। কারণ এই খাবারগুলো ওষুধের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বলা হয়ে থাকে, ওষুধ এবং কিছু খাবারের মধ্যেকার মিথস্ক্রিয়া মূলত তিনটি উপায়ে ঘটে: প্রথমত, এটি শরীরে ওষুধের শোষণকে ব্যাহত করে; দ্বিতীয়ত, ওষুধ শোষণের হার কমিয়ে দেয়; এবং তৃতীয়ত, শরীরে ওষুধের ভাঙনকে বাধা দেয়। তাই অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালীন সঠিক খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। জেনে নিন, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় কোন খাবারগুলো বর্জন করা উচিত:
১. অম্ল জাতীয় খাবার: অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় প্রথম যে খাবারটি বাদ দিতে হবে তা হলো উচ্চ মাত্রার অম্লযুক্ত খাবার। চকলেট, বাদাম, টক ফল এবং টমেটোর মতো খাবার শরীরে ওষুধের শোষণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
২. দুগ্ধ জাতীয় খাবার: দই বাদে অন্য সকল প্রকার দুগ্ধজাত খাবার অ্যান্টিবায়োটিক চলাকালীন বন্ধ রাখা উচিত। দুধ, পনির ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে, যা অ্যান্টিবায়োটিকের শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তবে দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অ্যান্টিবায়োটিকের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
৩. অ্যালকোহল: চিকিৎসাধীন অবস্থায় কখনোই অ্যালকোহল গ্রহণ করা উচিত নয়। অ্যালকোহলের কিছু উপাদান ওষুধের কার্যকারিতার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
৪. আঁশ জাতীয় খাবার: আঁশযুক্ত খাবারের কিছু বৈশিষ্ট্য পাকস্থলীতে খাদ্য শোষণের গতি কমিয়ে দেয়। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ একটি নির্দিষ্ট সময় নিয়ে পাকস্থলীতে ভাঙে। কিন্তু যদি এই সময় উচ্চ পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া হয়, তবে ওষুধ ভালোভাবে কাজ করতে পারে না।
৫. কফি: অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন কফি অবশ্যই বর্জন করা উচিত। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এটি শরীরের জন্য বিষের মতো কাজ করতে পারে।
৬. অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট: এই সময় অতিরিক্ত আয়রন ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার বা সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এটি ওষুধের শোষণে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
সুতরাং, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় এই খাবারগুলো বর্জন করে ওষুধের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং তাদের দেওয়া খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।