পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা নিঃসন্দেহে একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। বিশেষ করে মহামারীর সময়ে জীবাণুমুক্ত থাকার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে সকলেই এর উপর জোর দিচ্ছেন। তবে এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসটি যখন খুঁতখুঁতিতে পরিণত হয়, তখনই তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বারবার হাত ধোয়া, ঘনঘন ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা কিংবা আলমারি গোছানো – এগুলো অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি-র লক্ষণ হতে পারে। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যুক্তিহীন অবসেশন (অবাঞ্ছিত চিন্তা) এবং কম্পালসনের (বাধ্যতামূলক আচরণ) এক চক্রের মধ্যে আটকে পড়েন। এর ফলে অবাঞ্ছিত চিন্তার সৃষ্টি হয়, যা মানসিক যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। ওসিডির লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক ব্যবস্থা নিলে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
জেনে নিন কীভাবে বুঝবেন আপনি ওসিডিতে আক্রান্ত কিনা:
১. অতিরিক্ত হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহার: মহামারীর এই সময়ে বিশেষজ্ঞরা বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। তবে জীবাণু এবং ব্যাকটেরিয়ার ভয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের অভ্যাস ওসিডির লক্ষণ হতে পারে। আপনার যদি দিনে অসংখ্যবার হাত ধোয়ার বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, তবে এটি চিন্তার বিষয়।
২. সবকিছু বারবার পরীক্ষা করা: ঘর থেকে বের হওয়ার আগে বা বাড়িতে থাকার সময় বারবার দরজা লক করা হয়েছে কিনা, গ্যাসের নব বন্ধ আছে কিনা এবং অন্যান্য জিনিস বারবার পরীক্ষা করার প্রবণতা ওসিডির লক্ষণ হতে পারে। ওসিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর সবকিছু পুনরায় পরীক্ষা করা একটি সাধারণ আচরণ।
৩. নির্দিষ্ট সংখ্যা বা প্যাটার্ন অনুসরণ: কারো কারো অভ্যাস থাকে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় গুনতে থাকা অথবা নির্দিষ্ট নিউমেরিক্যাল প্যাটার্ন অনুযায়ী কাজ করা। এই আচরণগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কুসংস্কারের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। তারা আশঙ্কা করে যে, যদি তারা এই কাজটি না করে, তবে খারাপ কিছু ঘটতে পারে। এটিও ওসিডির একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।
৪. জিনিসপত্র নির্দিষ্ট স্থানে রাখা: ওসিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে সবকিছু গুছিয়ে রাখে। উদাহরণস্বরূপ, ডেস্কের বাম দিকে ফোন এবং ডান দিকে জলের বোতল রাখা এবং সর্বদা একইভাবে জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা। তারা তাদের চারপাশের জিনিসপত্রের স্থান নির্ধারণ এবং সেগুলোর সামান্যতম পরিবর্তনেও অত্যন্ত খুঁতখুঁতে হন।
৫. নিখুঁত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা: ওসিডিতে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই সবকিছুতে নিখুঁত থাকতে চান। তারা তাদের চেহারা বা শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকেন। ধরুন, আপনি একবার চুল বেঁধেছেন, কিন্তু মনে হলো সামান্য এলোমেলো লাগছে এবং আপনি পুনরায় খুলে চুল বাঁধলেন যতক্ষণ না পর্যন্ত তা নিখুঁত হচ্ছে। এটিও ওসিডির একটি লক্ষণ।
যদি আপনি এই লক্ষণগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিজের মধ্যে দেখতে পান, তবে দেরি না করে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে ওসিডির মতো মানসিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।