ঠান্ডা ও গরমের এই মিশ্র আবহাওয়ায় বহু শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। দিনের বেলা গরম এবং রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশুরা সহজেই ঠান্ডা-জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হয়। এর পাশাপাশি, শিশুর শরীরে চুলকানি, র্যাশ এবং মারাত্মক ফুসকুড়ির মতো অ্যালার্জিজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এই সময় শিশুকে সঠিক পরিচর্যার মধ্যে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
শিশুর প্রাথমিক যত্ন ও করণীয়
১. ভাইরাস জ্বর ও পানীয়: শিশুর ভাইরাস জ্বর হলে প্রচুর পরিমাণে জল ও ফলের রস খাওয়াতে হবে। জ্বরের মাত্রা ১০০° ফারেনহাইটের বেশি হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. অ্যালার্জি প্রতিরোধ: যেসব শিশুর অ্যালার্জি আছে, তাদের ফুল বা পরাগ থেকে দূরে রাখুন। বাইরে বের হওয়ার আগে শিশুকে মাস্ক পরিয়ে দিন এবং বাইরে থেকে ফিরেই সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ানোর অভ্যাস তৈরি করুন।
ঠান্ডা ও ফাঙ্গাল সংক্রমণ এড়ানোর ৫টি টিপস
আবহাওয়ার ওঠা-নামার সময় শিশুর ঠান্ডা লাগা এবং ত্বকের সংক্রমণ রোধ করতে এই ৫টি বিষয় মেনে চলুন:
১. রাতে উষ্ণতা বজায় রাখুন: শীত কম থাকলেও রাতের শেষের দিকে আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা থাকে। হয়তো ঘুমের মধ্যে শিশু লেপ বা কম্বল সরিয়ে ফেলে। এই কারণে, শেষ রাতের দিকে শিশুকে গরম কাপড়ে ঢেকে রাখুন বা হালকা কম্বল দিয়ে দিন।
২. পোশাকের সঠিক নির্বাচন: শিশুকে অতিরিক্ত পাতলা কাপড় পরিয়ে রাখবেন না। আবার বেশি ভারী কাপড় পরালে শিশুর ঘাম হতে পারে এবং সেই ঘাম থেকেও ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাই দিন ও রাতের তাপমাত্রা বুঝে শিশুকে পোশাক পরান।
৩. নিয়মিত গোসল ও জীবাণুনাশক ব্যবহার: আবহাওয়া যেমনই হোক, শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। শিশুর শরীর জীবাণুমুক্ত রাখতে গোসলের জলে অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড বা নিমের পাতা মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
৪. ত্বকের যত্ন ও পাউডার ব্যবহার: ছোটদের ত্বক খুবই সংবেদশীল। শীতের শেষের দিকে ত্বক আরও খসখসে হয়ে যায়। তাই শিশুর শরীরে বডি লোশন বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে ভুলবেন না। শিশুর শরীর ঘামলে বগল বা কুচকিতে ফাঙ্গাল ইনফেকশন যাতে না হয়, সেজন্য নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন এবং টেলকম পাউডার ব্যবহার করুন।
৫. ফ্যান ও খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা:
ফ্যান: শিশুর শরীর ঘামছে বলে জোরে ফ্যান চালাবেন না। যদি ফ্যান চালাতেই হয়, তবে হালকা করে ছেড়ে রাখুন। রাতে ফ্যান না চালানোই ভালো, কারণ ফ্যানের বাতাস থেকেও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
খাবার: ঋতু পরিবর্তনে শিশুরা ডায়রিয়াতেও বেশি আক্রান্ত হয়। তাই এ সময় শিশুর খাবারের প্রতি লক্ষ্য রাখুন। ফাস্টফুড কিংবা প্রকৃতিজাত (অনিরাপদ) কোনো খাবার না খাইয়ে শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খেতে দিন।