শরীরকে সুস্থ রাখতে ভিটামিন ডি-এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। হাড়, দাঁত মজবুত করা থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো—সবক্ষেত্রেই ভিটামিন ডি অপরিহার্য। তবে বিশেষজ্ঞরা এবার এক চরম সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, যদি আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দেদার ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট (Vitamin D Tablet) খেতে থাকেন, তাহলে তা উপকারের বদলে আপনার কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ নেফ্রোলজি এবং ইউরোলজির বিশেষজ্ঞ নেফ্রোলজিস্ট (কিডনি বিশেষজ্ঞ) ডা: নবীনাথ এম চেন্নাই এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, অতিমাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কতটা পরিমাণ ভিটামিন ডি বিপজ্জনক?
ডা: নবীনাথ এম-এর মতে, একজন সাধারণ মানুষের শরীরে একদিনে প্রায় ৪০০ থেকে ১০০০ IU (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) পর্যন্ত ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু বিপদ তখনই শুরু হয় যখন ডোজের মাত্রা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা:
যদি কেউ প্রতিদিন ৪ হাজার IU থেকেও বেশি ভিটামিন ডি গ্রহণ করেন এবং তা কয়েক মাসে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার IU পর্যন্ত পৌঁছয়, তবে শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হলো, কেউ কেউ অজান্তে ৬০ হাজার IU-এর মতো অতিরিক্ত মাত্রার ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেন।
এই অতিরিক্ত মাত্রা রক্তে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ অত্যধিক বাড়িয়ে দেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘হাইপারক্যালশেমিয়া’ (Hypercalcemia) বলা হয়। এই পরিস্থিতিতে কিডনির ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয় এবং তা বিকল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
যেভাবে কিডনি বিকল হতে পারে
কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা: নবীনাথ এম আরও জানান, “অতিরিক্ত ভিটামিন ডি কিডনি বিকল করে দিতে পারে।” এর কারণ হলো:
১. অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম: রক্তে ক্যালশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে কিডনিকে রক্ত থেকে অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম বের করার জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। ২. পাথর তৈরি: অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম কিডনির ভেতরে জমা হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে পাথরের আকার ধারণ করে। ৩. কিডনি ফেলিওর: সমস্যা গুরুতর হলে তা কিডনি ফেলিওরের (Kidney Failure) দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ভিটামিন ডি ওভারডোজের ৬ সংকেত
শরীরে ভিটামিন ডি অতিরিক্ত পরিমাণে পৌঁছলে তার লক্ষ্মণ দ্রুত নজরে আসে না, যা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। ডা: নবীনাথ এম-এর মতে, নিম্নোক্ত লক্ষ্মণগুলি দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে:
গা গোলানো ভাব, বমি
অতিরিক্ত জল তেষ্টা
বারবার প্রস্রাব হওয়া
মাংসপেশী দুর্বল হয়ে যাওয়া
অতিরিক্ত ক্লান্তি
পিঠের নীচের অংশে ব্যথা
এছাড়াও যদি কিডনি বিকল হতে শুরু করে, তবে পায়ে যন্ত্রণা, ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
কীভাবে ওভারডোজ থেকে বাঁচবেন?
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ধরনের সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করলে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ওভারডোজের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই বিশেষজ্ঞের কড়া পরামর্শ—ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ডি-এর ট্যাবলেট বা ইনজেকশন নেওয়া কখনওই উচিত নয়। শরীরে ভিটামিন ডি এবং ক্যালশিয়ামের পরিমাণ কত রয়েছে, তা নিয়মমাফিক রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নেওয়া জরুরি।