সাম্প্রতিককালে বহু পুরুষ স্পার্মের অপর্যাপ্ত সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগে ভুগছেন। স্পার্ম কাউন্ট কম হওয়ার কারণে অনেক দম্পতিই সন্তানের মুখ দেখতে পারছেন না। তবে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে এই ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি, না হলে ভবিষ্যতে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে করা কিছু অভ্যাসই এই বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল এনএইচএস-এ স্পার্ম কমে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আসুন, সেই কারণগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:
ড্রাগ (মাদক):
অ্যানাবলিক স্টেরয়েড সাধারণত পেশির শক্তি ও বৃদ্ধি বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর প্রভাবে অণ্ডকোষ সংকুচিত হয়ে যেতে পারে এবং স্পার্ম কাউন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অর্থাৎ, মাদক দ্রব্য গ্রহণ করলে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হ্রাস পায়।
অ্যালকোহল (মদ):
যদি আপনার মদ্যপানের অভ্যাস থাকে, তাহলে সাবধান হওয়া উচিত। অ্যালকোহল টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা আপনার সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাকে হ্রাস করে। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে।
ধূমপান:
তামাক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর পাশাপাশি এটি স্পার্ম কাউন্টও কমিয়ে দেয়। তাই আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে হলেও ধূমপান থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
ডিপ্রেশন (অবসাদ):
যদি আপনি ডিপ্রেশনের শিকার হন, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আপনার স্পার্ম কাউন্ট কম হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে এই মানসিক চাপ।
ওজন:
ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্পার্ম কাউন্ট কমে যেতে পারে। তাই নিজের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।
এই কারণগুলো ছাড়াও আরও কিছু বিষয় স্পার্মের সংখ্যা কমাতে পারে। তাই নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং কোনো সমস্যা মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতার জন্য আজ থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।