সুপারফুডের চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন কি ফাঁকা বুলি? এই ৩ খাবার আসলে স্বাস্থ্যকর নয়!

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘সুপারফুড’ ধারণাটি খাদ্য ও স্বাস্থ্য জগতে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই খাবারগুলোকে পুষ্টির পাওয়ার হাউস হিসেবে প্রচার করা হয় এবং দাবি করা হয় যে এগুলো আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে পারে। অনেকেই এই ভেবে এসব খাবার গ্রহণ করেন যে এগুলো তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করবে। তবে পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকর বলছেন অন্য কথা। তার মতে, কিছু তথাকথিত ‘সুপারফুড’ আসলে ততটা স্বাস্থ্যকর নয় যতটা তাদের বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়।

পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকর সম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি তিনটি জনপ্রিয় খাবারকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বাস্তবে সেগুলো স্বাস্থ্যকর নয় বলে উল্লেখ করেছেন।

সুপারফুড আসলে কী?

সুপারফুড হলো সাধারণ খাবার যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার বা ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় যৌগ সমৃদ্ধ। এই ধরনের খাবার স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয়। এগুলো পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় সামগ্রিক সুস্থতার জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকরের মতে, বাজারে ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত এই তিনটি খাবার আসলে স্বাস্থ্যকর নয়:

১. গ্রিন টি:

বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকর বলেছেন, যদি আপনি গ্রিন টির স্বাদ পছন্দ করেন তবেই এটি পান করা উচিত। অনেকেই মনে করেন গ্রিন টি ওজন কমানোর জন্য একটি সুপারফুড এবং সুস্থ থাকার জন্য এটি পান করা জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞের মতে, শুধুমাত্র গ্রিন টি পান করে ওজন কমানো বা পেটের চর্বি কমানো সম্ভব নয়। এতে যে সামান্য পরিমাণে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে, তা আপনার স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাতে যথেষ্ট নয়।

২. প্যাকেটজাত জুস:

ফলের রসে কিছু পুষ্টিগুণ থাকলেও, প্রক্রিয়াজাত করার সময় এর ফাইবার অংশ বাদ পড়ে যায়। প্যাকেটজাত জুসে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম রং এবং ইমালসিফায়ার মেশানো থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। পুষ্টিবিদ সুধাকর ফলের উপকারিতা পেতে ফলের রস না খেয়ে আস্ত ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

৩. হেলথ ড্রিংকস:

বাজারে উপলব্ধ হেলথ ড্রিংকসগুলোতে গুঁড়া দুধ, চিনি এবং কৃত্রিম সুগন্ধ মেশানো থাকে। এগুলো দুধকে সুস্বাদু করতে পারলেও, আপনার বা আপনার সন্তানের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে না।

তথাকথিত সুপারফুডের স্বাস্থ্যকর বিকল্প:

যেহেতু পুষ্টিবিদ শালিনী সুধাকর এই তিনটি সুপারফুডের মিথ ভেঙে দিয়েছেন, তাই এখানে কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প দেওয়া হলো যা আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন:

১. ভেষজ চা:

গ্রিন টির পরিবর্তে অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নতি, ওজন কমানো এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য ভেষজ এবং মসলা মিশ্রিত চা পান করার চেষ্টা করুন। পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবন পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো সুষম খাবার গ্রহণ করা এবং ক্যালোরি ঝরানো।

২. আস্ত ফল:

পুষ্টিবিদ সুধাকর পরামর্শ দেন, ফলের জুস ঘরে তৈরি করা হলেও তা পরিহার করা উচিত। জুসিং প্রক্রিয়ায় আঁশ বাদ পড়ে যায় এবং এটি কেবল চিনিতে পূর্ণ থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। তাই ফলের সম্পূর্ণ পুষ্টি পেতে আস্ত ফল খান।

৩. ঘরে তৈরি হেলথ ড্রিংকস:

বাজার থেকে প্রক্রিয়াজাত হেলথ ড্রিংক পাউডার না কিনে ঘরেই তৈরি করুন। সাধারণ কোকো পাউডার ব্যবহার করুন অথবা দুধের স্বাদ বাড়াতে বাদামের মিশ্রণ যোগ করতে পারেন। পুষ্টিবিদ সুধাকর বলেছেন, যদি প্রক্রিয়াজাত হেলথ ড্রিংকস পাউডার খেতেই হয়, তবে দিনে এক চামচের বেশি খাবেন না এবং এটি থেকে কোনো স্বাস্থ্য উপকারের আশা করবেন না।