কোলেস্টেরল এড়াতে ডিমের কুসুম খাওয়া কি একেবারেই বন্ধ করা উচিত? কী বলছেন পুষ্টিবিদরা?

সকালের পুষ্টিকর খাদ্যতালিকার কথা উঠলে সবার আগে যার নাম মাথায় আসে, তা হলো ডিম। প্রোটিন, ভিটামিন এবং প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডে ভরপুর ডিমকে সুপারফুড হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কি ডিমের কুসুম খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া জরুরি? অনেকেই মনে করেন যে ডিমের কুসুমের মধ্যে থাকা উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল সরাসরি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক পুষ্টি গবেষণা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বাস্তবতার কথা তুলে ধরছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে যে পরিমাণ কোলেস্টেরলের প্রয়োজন হয়, তার একটি বড় অংশ যকৃৎ বা লিভার নিজেই তৈরি করে। খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করা কোলেস্টেরল রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর খুব একটা বেশি প্রভাব ফেলে না, যতটা না প্রভাব ফেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাট। একটি মাঝারি আকারের ডিমের কুসুমে প্রায় ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, তবে এর সঙ্গে এতে রয়েছে কোলিন, লুটেইন, জেক্সানথিন এবং ভিটামিন ডি-এর মতো অত্যন্ত মূল্যবান পুষ্টি উপাদান, যা মস্তিষ্কের বিকাশ এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ফলে শুধুমাত্র কোলেস্টেরল বাড়ার ভয়ে ডিমের কুসুম ফেলে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
অবশ্যই, যাঁদের ইতিমধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস কিংবা রক্তে অতিরিক্ত মাত্রায় কোলেস্টেরল রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা কুসুম খাওয়ার বিষয়ে কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তিরা দিনে একটি গোটা ডিম অনায়াসেই খেতে পারেন, যা শরীরের কোনো ক্ষতি করে না। তবে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং ফাস্টফুডের সঙ্গে ডিমের কুসুম খেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ডায়েট থেকে কুসুম সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখাই হলো প্রকৃত সুস্থতার চাবিকাঠি।