কোলেস্টেরল মানেই ভয় নয়, তবে রক্তে ‘এলডিএল’ (LDL) বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ধমনীতে জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাত্রায় ওষুধ ছাড়াই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কীভাবে? চিকিৎসকদের পরামর্শে দেখে নিন ৫টি কার্যকর প্রাকৃতিক উপায়:
১. ওমেগা-৩ যুক্ত ফ্যাটি ফিশ ও বাদাম
খাদ্যতালিকায় মাছের তেল বা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। টুনা, সার্ডিন বা ছোট মাছের পাশাপাশি প্রতিদিন এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খান। এগুলো রক্তে জমে থাকা চর্বি গলাতে এবং হার্টকে সুরক্ষা দিতে জাদুর মতো কাজ করে।
২. দ্রবণীয় ফাইবারের জাদু (ওটস ও বিনস)
দ্রবণীয় ফাইবার রক্তপ্রবাহে কোলেস্টেরল শোষণ কমিয়ে দেয়। প্রতিদিন সকালে ওটস, ডালিয়া বা প্রচুর পরিমাণে শিম, বিনস ও ডাল খাওয়ার অভ্যাস করুন। আপেল এবং পেয়ারাও ফাইবারের খুব ভালো উৎস।
৩. ভেষজ উপাদান: রসুন ও মেথি
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১-২ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ১০-১৫% কমে যায়। এছাড়া এক গ্লাস জলে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই জল পান করলে লিভার থেকে চর্বি নির্গমন ত্বরান্বিত হয়।
৪. ট্রান্স ফ্যাট ও চিনি বর্জন
বাইরের ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড, এবং প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ‘ট্রান্স ফ্যাট’ শরীরের সবথেকে বেশি ক্ষতি করে। এগুলো ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। তাই পরিশোধিত তেল এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকুন।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম (কার্ডিও এক্সারসাইজ)
বিনা ওষুধে কোলেস্টেরল কমানোর সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো শরীরচর্চা। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা (Brish Walk), সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো ‘এইচডিএল’ (HDL) বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা রক্তনালী পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
বোনাস টিপস:
অলিভ অয়েলে রান্নার অভ্যাস করুন। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এবং হার্ট-ফ্রেন্ডলি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করুন যা শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সহায়ক।
উপসংহার: আপনার রান্নাঘর এবং জীবনযাত্রায় এই ৫টি পরিবর্তন আনলে ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। সুস্থ হার্ট মানেই দীর্ঘ ও আনন্দময় জীবন।