মাইগ্রেন একটি তীব্র মাথাব্যথা, যা একবার শুরু হলে সহজে থামতে চায় না। এই ব্যথা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং আলো, শব্দসহ সবকিছুই অসহনীয় মনে হতে পারে। তবে কিছু কারণ রয়েছে যা মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে তোলে। এই কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে মাইগ্রেন থেকে দূরে থাকা সহজ।
১. মানসিক চাপ:
বর্তমান সময়ে শারীরিক অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মানসিক চাপ। মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়াতে এটি দারুণভাবে কাজ করে। অতিরিক্ত স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকলে মাইগ্রেন বেড়ে যেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন, কারণ এতে মাইগ্রেনসহ অন্যান্য অনেক রোগ থেকেও দূরে থাকা যায়।
২. ঘুমের অভাব:
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া মাইগ্রেনের একটি অন্যতম কারণ। যখন শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না, তখন তার স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। এর ফলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে, যা পরে মাইগ্রেনে রূপ নেয়। তাই প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
৩. খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম:
যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাদের খাবার গ্রহণে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক সময়ে খাবার না খেলে মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট সময় মেনে খাবার গ্রহণ করা উচিত।
৪. ডিহাইড্রেশন:
শরীরে জলের অভাব বা ডিহাইড্রেশন মাইগ্রেনের ব্যথাকে বাড়িয়ে তোলে। পর্যাপ্ত জল পান না করলে শরীরের মিনারেলসের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই প্রতিদিন অন্তত দুই লিটার জল পান করা এবং তরল খাবার ও তাজা ফলমূল খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. উজ্জ্বল আলো:
মাইগ্রেনের রোগীদের জন্য উজ্জ্বল আলো সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। হালকা ব্যথা অনুভব করলেই উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে সরে আসা উচিত। ঘরের আলো নিভিয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম নিলে ব্যথা কিছুটা কমতে পারে।
৬. অতিরিক্ত ক্যাফেইন:
যদিও অল্প পরিমাণ ক্যাফেইন মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে, অতিরিক্ত পরিমাণে এটি গ্রহণ করলে মাইগ্রেন শুরু হতে পারে। তাই কফি পানের পরিমাণ কমানো উচিত। একই সঙ্গে অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস থাকলে তাও বাদ দিতে বা কমিয়ে আনতে হবে।
৭. উচ্চ শব্দ:
উচ্চ শব্দ মাইগ্রেনের ব্যথাকে তীব্র করতে পারে। তাই জোরে গান শোনা বা বেশি শব্দের পরিবেশে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এই ধরনের পরিবেশ এড়িয়ে চলতে পারলে মাইগ্রেনের আক্রমণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।





