ব্যথানাশক নির্ভরতা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ!

মাথা যন্ত্রণা হোক বা পেটের ব্যথা, সামান্য অস্বস্তি হলেই চট করে একটা পেনকিলার মুখে গুঁজে দেওয়া আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে দু’ধরনের ভয়াবহ বিপদ। প্রথমত, ব্যথানাশকের সাহায্যে ব্যথা চাপা দেওয়ার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রোগ দীর্ঘকাল ধরে আড়ালে থেকে যায়। পরে যখন সেই রোগ ধরা পড়ে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত মাত্রায় পেনকিলার সেবন শরীরের বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা আমাদের অনেকেরই অজানা।

ধরুন, আপনার প্রায়শই মাথা যন্ত্রণা করে এবং আপনি সামান্যতেই পেনকিলার খেয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এমনও হতে পারে যে এই যন্ত্রণার উৎস কোনো ব্রেন টিউমার। দীর্ঘদিন ধরে পেনকিলার খেয়ে আপনি সেই ব্যথা চাপা দিয়ে রাখলেন ঠিকই, কিন্তু যখন রোগটি ধরা পড়ল, তখন টিউমারটি অনেক বড় আকার ধারণ করেছে।

আবার এমনও হতে পারে যে আপনার ডাস্ট বা কোল্ড অ্যালার্জির কারণে সব সময় মাথা ভার হয়ে থাকে। সামান্য কিছু ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার করলেই যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। অথচ আপনি প্রচুর পরিমাণে পেনকিলার খেয়ে সেই মাথা ব্যথা কমাতে চাইলেন। এতে আপনি সাময়িক আরাম পেলেন ঠিকই, কিন্তু আপনার সমস্যার সঠিক সমাধান হলো না।

পেটের ব্যথার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়। অনেকেই বিশেষ ধরনের পেনকিলার বা অ্যান্টাসিড খেয়ে সমস্যার মোকাবিলা করেন। যদিও কিছু মানুষ এখন সচেতন হয়েছেন, তবে সাধারণভাবে দেখা যায় পেট ব্যথা হলেই পেনকিলার বা অ্যান্টাসিডের শরণাপন্ন হন। এর ফলে আসল রোগ চাপা পড়ে যায়। হতে পারে আপনার পেটে ব্যথা করছে আলসারের কারণে, গলস্টোনের কারণে অথবা লিভারের কোনো গুরুতর সমস্যার জন্য। প্রচুর অ্যান্টাসিড এবং পেনকিলার খেয়ে আপনি দীর্ঘ দিন ধরে রোগ পুষে রাখলেন। অথচ রোগ যখন ধরা পড়ল, তখন তা অনেক দূর এগিয়েছে।

অনেকে বুকের কাছে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করলেও গ্যাসের সমস্যা ভেবে দু-একটি বড়ি খেয়ে নেন। এক্ষেত্রে একবার ডাক্তারের কাছে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে সত্যিই ওই ব্যথা গ্যাস থেকে হচ্ছে কিনা। কিন্তু তা না করে যখন বিষয়টি বুঝতে পারেন, তখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে। মনে রাখবেন, দীর্ঘদিনের মাথা ব্যথা বা পেটের ব্যথা কোনো গুরুতর রোগের উপসর্গ হতে পারে। প্রথম দিকে রোগ ধরা পড়লে আপনারই সুবিধা, দেরিতে ধরা পড়লে বিপদ আপনারই।

এছাড়াও, পেনকিলার থেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়া তো নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে পেনকিলার সেবন করলে পেটের সমস্যা দেখা দিতেই পারে। এমনকি, অ্যান্টাসিড ছাড়া পেনকিলার খেয়ে বিপজ্জনক পরিণতি হয়েছে, এমন উদাহরণও বিরল নয়। তাই ব্যথা কমাতে পেনকিলার খেতেই পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, শরীরের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে যদি নিয়মিত ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে অবশ্যই একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন। তিনিই আপনাকে বলতে পারবেন আপনার শরীরে কোনো বড় রোগ বাসা বেঁধেছে কিনা। আর যদি তেমন কিছু না থাকে, তাহলে কোন পেনকিলার আপনার শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হবে, সে বিষয়েও তিনি আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন।