প্রোটিন নিয়ে প্রচলিত ধারণায় বড় বদল, একবারে অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে কি তা নষ্ট হয়? জেনে নিন সত্য!

এক বেলার খাবারে আমাদের শরীর ঠিক কতটা প্রোটিন শোষণ করতে পারে? এই প্রশ্নটি নিয়ে জিমপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি রয়েছে। আমরা প্রায়শই শুনে থাকি যে, মানুষের পরিপাকতন্ত্র একবারে মাত্র ২০ থেকে ৩০ গ্রাম প্রোটিন হজম করতে পারে এবং তার বেশি গ্রহণ করলে তা শরীরে কোনো কাজে আসে না বা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছেন।
বাস্তবতা হলো, আমাদের পরিপাকতন্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী। আপনি একবারে যত গ্রাম প্রোটিনই গ্রহণ করুন না কেন, শরীর তার প্রায় পুরোটাই শোষণ করে নিতে সক্ষম। আসল পার্থক্যটা প্রোটিন শোষণে নয়, বরং সেই প্রোটিনের ব্যবহারের ধরনে। শরীরে প্রোটিন শোষিত হওয়ার পর তার কতটা তাৎক্ষণিকভাবে পেশি গঠনে বা মেরামতে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কতটা শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কাজে ব্যয় হচ্ছে—সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়।
শোষণ বনাম ব্যবহার:
গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পেশী প্রোটিন সংশ্লেষণ (Muscle Protein Synthesis)-কে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রতি বেলার খাবারে প্রায় ২০ থেকে ৪০ গ্রাম উচ্চ-মানের প্রোটিন যথেষ্ট। তবে এটি কোনো ধ্রুবক সংখ্যা নয়। ব্যক্তির শারীরিক আকার, বয়স, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের ধরন এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রোটিনের চাহিদায় বড় ধরনের তারতম্য হতে পারে।
অতিরিক্ত প্রোটিন কি নষ্ট হয়?
অনেকের ধারণা ২০-৩০ গ্রামের বেশি প্রোটিন খেলে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায় বা নষ্ট হয়। এটি ভুল। শরীর এই বাড়তি প্রোটিনকেও হজম ও শোষণ করে। রক্তপ্রবাহে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিডের এই ভাণ্ডারটি শরীর এনজাইম তৈরি, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধকারী কোষ গঠন এবং অন্যান্য শারীরিক টিস্যু মেরামতের মতো অতি জরুরি কাজগুলোতে ব্যয় করে। যদি শরীরে প্রোটিনের পর্যাপ্ত জোগান থাকে, তবে শরীর প্রয়োজনে অতিরিক্ত প্রোটিনকে শক্তির উৎস হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে।
পেশি বৃদ্ধির কৌশল:
‘জার্নাল অফ দ্য ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ স্পোর্টস নিউট্রিশন’-এর ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আমাদের পরিপাকতন্ত্র অনেক বেশি প্রোটিন শোষণ করতে পারে এবং অতিরিক্ত পুষ্টির অপচয় হয় না। আমাদের শরীর ধীর-কার্যকরী প্রোটিনগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে হজম করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে শরীরের টিস্যুগুলো গড়ে তোলে।
আপনি যদি আপনার পেশির বৃদ্ধি বা মাসল বিল্ডিং সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান, তবে গবেষকদের পরামর্শ হলো প্রতিটি খাবারে আপনার শরীরের ওজনের প্রতি কিলোগ্রামের জন্য প্রায় ০.৪ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা। সর্বোত্তম ফলাফল পেতে সারাদিনের প্রোটিনের চাহিদাকে একবারে গ্রহণ না করে অন্তত চারটি আলাদা খাবারে ভাগ করে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এটি শরীরে অ্যামাইনো অ্যাসিডের একটি স্থিতিশীল প্রবাহ নিশ্চিত করে, যা আপনার ফিটনেস যাত্রাকে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করবে। তাই প্রোটিনের হিসাব নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সুস্থতার চাবিকাঠি।