পিঠের মেদ কমাতে চান? ডায়েটের সঙ্গে এই ৩ ব্যায়ামেই মিলবে মুক্তি

পিঠের অতিরিক্ত মেদ নিয়ে অনেকেই নাজেহাল হন। এই মেদ সহজে দূরও হতে চায় না। এর কারণও অনেক। অনিয়মিত জীবনযাপন, শরীরচর্চার অভাব, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, অতিরিক্ত লবণ বা চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ পিঠে মেদ জমার অন্যতম কারণ। এছাড়াও, আঁটসাঁট পোশাকের কারণেও পিঠে লাম্প ফ্যাট দেখা দিতে পারে। জিনগত predispositions, অতিরিক্ত ওজন এবং উচ্চতাও পিঠের ফ্লাকচুয়েটিং ফ্যাটের কারণ হতে পারে।

তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে পিঠের এই অতিরিক্ত মেদ কমানো সম্ভব।

প্রথমত, পিঠের মেদ কমাতে নজর দিতে হবে সুষম ডায়েটের উপর। খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট কমিয়ে ফাইবার সমৃদ্ধ এবং কম সোডিয়াম যুক্ত খাবার যোগ করতে হবে। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন অ্যাভোকাডো, সেদ্ধ ডিম, বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি, ব্রাউন রাইস, বার্লি, মাশরুম, টফু, সামুদ্রিক মাছ এবং চিকেন ব্রেস্টের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার। এর পাশাপাশি বিভিন্ন শস্য ও ফল যোগ করুন যা আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করবে।

শুধু ডায়েট পরিবর্তন করলেই হবে না, ওজন কমাতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনাও জরুরি। পিঠের মেদ কমাতে প্রতিদিন বেশি করে হাঁটার অভ্যাস করুন। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই ত্যাগ করুন। বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। নিয়মিত ইনসুলিন লেভেল পরীক্ষা করানোও জরুরি। ফাস্টফুড খাওয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করুন।

পাশাপাশি, দ্রুত পিঠের মেদ কমানোর জন্য এই তিনটি ব্যায়াম আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করতে পারেন:

১. রোয়িং এক্সারসাইজ:

এই ব্যায়ামটি করার জন্য প্রথমে একটি বেঞ্চ বা টুলের উপর এক পায়ে ভর দিয়ে অন্য হাতটি সাপোর্টের জন্য রাখুন। এরপর ডান হাতের কনুই ভাঁজ করে ডাম্বেল বা বারবেল তুলুন, খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার কাঁধ ও পিঠে চাপ পড়ে। এভাবে ১০-১২ বার করার পর হাত বদল করে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন। পিঠের মাংসপেশির টোনিংয়ের জন্য এই ব্যায়ামটি অত্যন্ত কার্যকরী। এর পাশাপাশি, প্রতিদিন সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার অভ্যাসও পিঠের মেদ কমাতে সাহায্য করে।

২. সুপারম্যান এক্সারসাইজ:

ম্যাটে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। আপনার পেট ও বুক মাটি স্পর্শ করে থাকবে এবং হাত ও পা সোজা করে প্রসারিত করুন। এরপর ধীরে ধীরে হাত ও পা মাটি থেকে অন্তত ৬ ইঞ্চি উপরে তুলুন। এই অবস্থানে ১০ সেকেন্ড থাকুন। তারপর ধীরে ধীরে হাত ও পা নামিয়ে বিশ্রাম নিন এবং পুনরায় এটি ১০ বার পুনরাবৃত্তি করুন।

৩. ল্যাটেরাল রেইজ ব্যায়াম:

দুই হাতে ডাম্বেল নিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। শ্বাস নিন এবং হাত দুটোকে শরীরের দু’পাশে নিয়ে আসুন। এরপর হাত দুটোকে যতটা সম্ভব পাশের দিকে উপরে তোলার চেষ্টা করুন, খেয়াল রাখবেন দুই হাতের মধ্যে যেন নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় থাকে। কাঁধে বেশি চাপ না দিয়ে কনুই সামান্য ভাঁজ করুন। এভাবে কয়েকবার করুন এবং ধীরে ধীরে হাত আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনুন।

নিয়মিত এই ব্যায়ামগুলো এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি অবশ্যই পিঠের অতিরিক্ত মেদ থেকে মুক্তি পেতে পারেন এবং একটি সুন্দর ও সুগঠিত শরীর লাভ করতে সক্ষম হবেন।