তীব্র গরমে পেটের সমস্যা? এই ৫ পানীয় আরাম দিতে যথেষ্ট

তীব্র গরমে যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত, তখন এই ঋতু শরীরকে কাবু করে ফেলে নানা রোগব্যাধির হাত ধরে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শরীরকে একটু বেশিই যত্নের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রখর রোদ আর অসহ্য গরম থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যতালিকায় যোগ করুন স্বাস্থ্যকর পানীয় ও ফল। গ্রীষ্মকালকে বলা হয় ফলের ভাণ্ডার। তাই এই সময়ে রসালো ফল খাওয়া যেমন জরুরি, তেমনই শরীরকে হাইড্রেটেড রাখাটাও খুব দরকার। আর পেটের সমস্যা তো গ্রীষ্মকালে ঘরে ঘরে লেগেই থাকে! গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অ্যাসিডিটির যন্ত্রণায় অনেকেই নাজেহাল হন।
তবে চিন্তা নেই! কিছু প্রাকৃতিক পানীয় আছে যা এই অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে সহজেই, পাশাপাশি শরীরকেও রাখবে ঠান্ডা। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই чудо-পানীয়গুলো সম্পর্কে:
১. বাটারমিল্ক (ঘোল):
গ্রীষ্মের দুপুরে এক গ্লাস ঠান্ডা বাটারমিল্ক যেন অমৃত! এটি শুধু শরীরকে ঠান্ডা রাখে না, পেটের যাবতীয় সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয়। বিশেষ করে অ্যাসিডিটির জন্য এটি খুবই উপকারী। বাটারমিল্কে উপস্থিত ভালো ব্যাকটেরিয়া পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। দই এবং কিছু মশলার সংমিশ্রণে তৈরি এই পানীয়টি প্রতিদিন পান করলে শরীর থাকবে হাইড্রেটেড। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ (NIH)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাটারমিল্ক পান করলে সিস্টোলিক রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং শরীর থাকে ঠান্ডা।
২. শসার রস:
গ্রীষ্মকালে শসা খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ জল থাকে। স্যালাড বা রায়তা হিসেবে তো আমরা হামেশাই খাই, তবে এর রসও একবার চেখে দেখা উচিত। শসার রস অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে সহজেই। এটি হজমশক্তিও উন্নত করে। আর যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য সুখবর! শসার রসে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম।
৩. লেবুর জল:
পেটের সমস্যা সমাধানে লেবুর জল কোনো ওষুধের থেকে কম নয়! ভিটামিন সি ও বি তো আছেই, এছাড়াও এতে পাওয়া যায় ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ। গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন এক গ্লাস লেবুর জল পান করলে পেটের সমস্যা দূর হয় এবং এটি ওজন কমাতেও বিশেষভাবে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
৪. ডাবের জল:
তীব্র গরমে শরীরকে ডিহাইড্রেটেড রাখাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডাবের জলের জুড়ি মেলা ভার। এটি শুধু শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে না, পেটের জন্যও খুবই উপকারী। বিশেষ করে পাকস্থলীর অ্যাসিডের ভারসাম্য রক্ষা করতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এতে উপস্থিত পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম পেটের জ্বালা থেকে দ্রুত মুক্তি দেয়। তাই গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন অন্তত একবার তাজা ডাবের জল পান করা উচিত। এর মিষ্টি স্বাদও মন জয় করে নেয় সহজেই।
৫. মৌরি জল:
মৌরির শীতল প্রভাবের কারণে গ্রীষ্মকালে এর ব্যবহার বহুবিধ। এতে এমন অনেক গুণাগুণ রয়েছে যা পেটকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যদি আপনি অ্যাসিডিটি এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, তাহলে মৌরি জল আপনাকে তাৎক্ষণিক আরাম দিতে পারে। রাতে জলে মৌরি ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জল পান করলে হজমক্ষমতাও বাড়ে।
এই গ্রীষ্মে আর পেটের সমস্যায় কাবু হবেন না! হাতের কাছে রাখুন এই ৫টি প্রাকৃতিক পানীয় আর উপভোগ করুন সুস্থ ও সতেজ জীবন।