ডায়রিয়া থেকেও হতে পারে কিডনি বিকল: যেভাবে সতর্ক থাকবেন জেনে নিন!

ডায়রিয়া থেকেও হতে পারে কিডনি বিকল: যেভাবে সতর্ক থাকবেন জেনে নিন!
আজকের টিপস ডেস্ক
কলকাতা, ৮ জুন ২০২৫: ডায়রিয়া একটি সাধারণ সমস্যা, যার প্রাথমিক চিকিৎসা বেশিরভাগ মানুষ ঘরেই করে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলশূন্যতা এড়াতে খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা জরুরি। কিন্তু ডায়রিয়ার সঙ্গে কিডনি বিকলের সম্পর্ক অনেকের কাছেই অজানা।
ডায়রিয়া ও কিডনি বিকল হওয়ার সম্পর্ক
আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ সামাদ এ বিষয়ে বলেন, “দেশের প্রেক্ষাপটে ডায়রিয়া থেকে জলশূন্যতাই আকস্মিক কিডনি বিকলের অন্যতম কারণ।”
তিনি আরও জানান, যারা প্রতিদিন রোদে কাজ করেন এবং পর্যাপ্ত জল পান করেন না, তাদের ক্ষেত্রেও জলশূন্যতার কারণে হঠাৎ কিডনি বিকল হতে পারে। এছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদী ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়া, কিডনিতে অতিরিক্ত পাথর জমা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ইউরিন ইনফেকশনের মতো কারণে হঠাৎ করে কিডনি বিকল হতে পারে।
ডায়রিয়া হলে কী করবেন?
ডা. সামাদ জোর দিয়ে বলেন, ডায়রিয়া হলেই তাৎক্ষণিকভাবে খাবার স্যালাইন পান করতে হবে, যাতে শরীরে জলশূন্যতা তৈরি না হয়। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ এবং কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও আকস্মিক কিডনি বিকলের কারণ হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: যখন তখন ব্যথানাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা থেকে বিরত থাকুন। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ গ্রহণ করুন।
কিডনি সমস্যার লক্ষণ কী কী?
কিডনি সমস্যার কিছু প্রাথমিক ও গুরুতর লক্ষণ রয়েছে, যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ডা. সামাদের মতে, এই লক্ষণগুলো হলো:
তলপেটে বা মূত্রনালীতে ব্যথা
ঘুমের ব্যাঘাত
প্রস্রাবে পাথর যাওয়া
চোখের পাতা বা পা ফোলা
ত্বকের রং ফ্যাকাশে হওয়া
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
শরীর কালচে হয়ে যাওয়া
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
কিডনি রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা
ডা. সামাদ জানান, ইউরিন ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই কিডনির সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব। যদি প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত করা যায়, তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই কিডনির সমস্যা ধরা পড়লে বিচলিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
কিডনি রোগ প্রতিরোধের উপায়
কিডনি সুস্থ রাখতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে:
শরীরচর্চা: প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট শরীরচর্চা করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ১৫ মিনিট জোরে হাঁটলে গড় আয়ু প্রায় ৩ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান পরিহার করুন। এতে হার্ট অ্যাটাকসহ কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে।
নিয়মিত পরীক্ষা: যদি ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে নিয়মিত কিডনির পরীক্ষা করান।
সুষম খাদ্য: খাবারে সাবধানতা অবলম্বন করুন। নিয়মিত ফল ও শাকসবজি খান।
লবণ পরিহার: অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ঔষধের ব্যবহার: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করবেন না।
বিশুদ্ধ জল ও পরিচ্ছন্নতা: বিশুদ্ধ জল পান করুন এবং পরিচ্ছন্ন থাকুন।
এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে কিডনি সুস্থ থাকবে এবং সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব হবে। আপনার কি কিডনি রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে আরও কিছু জানার আছে?