ঠোঁটে কি ছোট ছোট ফোসকা উঠেছে? সর্দি-কাশি ভেবে ভুল করছেন না তো!

শীত হোক কিংবা গ্রীষ্ম, অনেকেই প্রায়ই ঠোঁটের কোণে বা মুখের চারপাশে ছোট ছোট জলভরা ফোসকা বা চুলকানি জাতীয় সমস্যায় ভুগে থাকেন। সাধারণ মানুষ এই সমস্যাটিকে প্রায়শই সর্দি-কাশি বা সাধারণ জ্বর বলে ভুল করে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, একে বলা হয় ‘জ্বরঠোসা’ বা কোল্ড সোর। এটি মূলত হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (HSV-1) নামক একটি ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেলে, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ঘুরে বেড়ালে এই ভাইরাসটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ঠোঁটে অস্বস্তিকর ফোসকা সৃষ্টি করে।
জ্বরঠোসা কোনো সাধারণ সংক্রামক রোগ নয়, এটি অত্যন্ত দ্রুত একজনের থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফোসকাগুলো সাধারণত নিজেই কয়েকদিনের মধ্যে শুকিয়ে যায়, তবে এই সময়ে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া ও ব্যথা অনুভব হয়। এই সমস্যা থেকে দ্রুত আরাম পেতে এবং এর প্রকোপ কমাতে কিছু কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিকার অত্যন্ত সাহায্য করতে পারে। প্রথমত, বরফ ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফ জড়িয়ে ফোসকার ওপর হালকাভাবে সেঁক দিলে ফোলা ভাব ও ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। দ্বিতীয়ত, রসুন প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। রসুনের কোয়া বেটে বা থেঁতো করে ফোসকার ওপর লাগালে তা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে সাহায্য করে। তবে ব্যবহারের সময় যদি বেশি জ্বালাপোড়া হয়, তবে তা অবিলম্বে ধুয়ে ফেলতে হবে। তৃতীয়ত, টি-ট্রি অয়েল এই সমস্যায় দারুণ উপকারী। তুলার সাহায্যে সামান্য টি-ট্রি অয়েল আক্রান্ত স্থানে লাগালে জীবাণু ধ্বংস হয় এবং দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। চতুর্থত, মধু তার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণের কারণে ফোসকা দ্রুত সারাতে এবং ত্বকের জ্বালা কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।