কানে পোকা বা ছোট্ট কিছু ঢুকেছে? বড় বিপদ এড়াতে আজই জেনে নিন চিকিৎসকদের এই ৪টি জরুরি কৌশল

দৈনন্দিন জীবনে একটু অসাবধানতা বা ছোটখাটো ভুলের কারণে অনেক সময় আমাদের কানে নানা ধরনের বস্তু ঢুকে যেতে পারে। ছোটদের ক্ষেত্রে পুতি, খেলনার টুকরো, কিংবা বড়দের ক্ষেত্রে কটন বাডের তুলো, এমনকি কোনো ছোট পোকা বা জল ঢুকে যাওয়ার ঘটনা খুবই সাধারণ। কিন্তু এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে এমন কিছু ভুল পদক্ষেপ ফেলে দেন, যা কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। কান আমাদের শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঙ্গ, তাই সামান্য অবহেলা স্থায়ী বধিরতা বা মারাত্মক ইনফেকশনের জন্ম দিতে পারে। কান সুরক্ষায় চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে কিছু প্রাথমিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
যদি কখনও আপনার বা আপনার শিশুর কানে কোনো পোকা বা বস্তু ঢুকে পড়ে, তবে সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান নিয়ম হলো সম্পূর্ণ শান্ত থাকা এবং আতঙ্কিত না হওয়া। কানের ভেতর কোনো জীবিত পোকা ঢুকে গেলে কখনোই তাতে শক্ত কাঠি, সুই বা দিয়াশলাইয়ের কাঠি প্রবেশ করাবেন না। এর ফলে পোকাটি আরও ভেতরে চলে যেতে পারে এবং কানের সংবেদনশীল পর্দার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পোকা দূর করার জন্য কানের মধ্যে সামান্য পরিমাণে পরিষ্কার অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল কয়েক ফোঁটা দিয়ে মাথা কাত করে রাখলে পোকাটি সাধারণত নিজে থেকেই ভেসে ওঠে বা মারা যায়। এর পর আলতো করে তা পরিষ্কার করে নেওয়া সম্ভব হয়।
তবে যদি কানের ভেতরে কোনো শক্ত বস্তু যেমন পুঁতি, পাথরের টুকরো বা খাদ্যকণা আটকে যায়, তবে নিজে থেকে সেটিতে সাাঁড়াশী বা চিমটে দিয়ে তোলার চেষ্টা করা চরম বোকামি। এর ফলে বস্তুটি কানের ভেতরের দিকে আরও গভীরে ঢুকে গিয়ে কানের নালীর দেওয়াল ক্ষতবিক্ষত করতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত কোনো নাক, কান, গলা (ENT) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। চিকিৎসকরা তাদের কাছে থাকা বিশেষ যন্ত্র ও ভ্যাকুয়ামের সাহায্যে অত্যন্ত নিরাপদে এবং সুনিপুণভাবে আটকে থাকা বস্তুটি বের করে আনেন। সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপই পারে আপনার অমূল্য কানকে চিরতরে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে।