অনেক মহিলাই জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন, কারণ তাদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে এই পিল খেলে ওজন বেড়ে যায়। তবে বাস্তবতা হলো, এই ধারণাটি সব ক্ষেত্রে সত্যি নয়। কিছু নারীর ক্ষেত্রে পিল খাওয়া শুরু করার পর সাময়িকভাবে ওজন সামান্য বাড়তে দেখা গেলেও, এর কারণ চর্বি বৃদ্ধি নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার শুরুতে ওজন বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো শরীরে তরল জমা হওয়া। এটি একটি অস্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে এই ওজন বাড়ে না।
৪৪টি পৃথক গবেষণার পর্যালোচনায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ওজন বৃদ্ধির কোনো সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও কিছু ওষুধের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে প্রাথমিকভাবে সামান্য ওজন বাড়তে পারে, তবে তা সাধারণত স্থায়ী হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ২-৩ মাসের মধ্যে এই অতিরিক্ত ওজন আপনাআপনিই কমে যায়।
বাজারে মূলত দুই ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল পাওয়া যায়:
কম্বিনেশন পিল: এই পিলে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিন নামক দুটি হরমোন থাকে।
শুধু প্রোজেস্টিন পিল: এই পিলে কেবল প্রোজেস্টিন হরমোন থাকে।
অধিকাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলেই একই ধরনের ইস্ট্রোজেন ব্যবহার করা হয়, তবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওষুধে প্রোজেস্টিন হরমোনের মাত্রায় ভিন্নতা থাকতে পারে। এই হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনের কারণেই বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে ওজন বৃদ্ধিও একটি।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যেকোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন শুরু করার পর অন্তত তিন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। এই সময়ের মধ্যেও যদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় অথবা অস্বাভাবিকভাবে ওজন বাড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন শুরু করার আগে একজন অভিজ্ঞ গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া। কারণ চিকিৎসক আপনার শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মানের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নির্বাচন করে দিতে পারবেন।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৬০ সালের গোড়ার দিকে যখন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বাজারে আসে, তখন সেগুলোতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিন হরমোনের মাত্রা অনেক বেশি থাকত। উচ্চ মাত্রার ইস্ট্রোজেন ক্ষুধা বৃদ্ধি করত এবং শরীরে তরল ধরে রাখার প্রবণতা বাড়াত, যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পেত।
তবে বর্তমানে বাজারে যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোতে হরমোনের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক কম। তাই এই আধুনিক পিলগুলোয় ওজন বাড়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সুতরাং, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে সঠিক তথ্যের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন করুন।