চোখের অঞ্জনি নিয়ে আর চিন্তা নয়! ঘরোয়া এই ৪ উপায় মুক্তি দেবে দ্রুত

চোখের পাতায় ছোট, লালচে ফোলাভাব—অঞ্জনি বা আইলিড সিস্টের সমস্যায় অনেকেই ভুগেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে স্টাই বা হরডিওলাম বলা হয়। কিন্তু কেন হয় এই পরিচিত সমস্যা?
বিশেষজ্ঞরা জানান, আমাদের চোখের পাতায় অসংখ্য ছোট ছোট তেল গ্রন্থি রয়েছে। মৃত কোষ, ধুলোবালি ও তেল জমে যখন এই গ্রন্থিগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভেতরে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। এর ফলস্বরূপ চোখের পাতায় দেখা দেয় অঞ্জনি।
অঞ্জনি সাধারণত তেমন বড় কোনো সমস্যা নয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েকদিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা থাকলে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অঞ্জনির কারণে চোখের যন্ত্রণা ও অস্বস্তি কমাতে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
১. গরম সেঁক:
একটি নরম কাপড় গরম জলে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। হালকা গরম অবস্থায় আলতো হাতে চোখের পাতায় সেঁক দিন। এটি সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং গ্রন্থির মুখে জমে থাকা তেল শুকাতে সাহায্য করে। এমনকি অঞ্জনির ব্যথাও দ্রুত কমে যায়। দিনে কয়েকবার ৫-১০ মিনিটের জন্য গরম সেঁক দিতে পারেন।
২. গরম টি-ব্যাগ:
ব্যবহৃত গরম টি-ব্যাগও অঞ্জনি সারাতে বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে কালো চায়ের ব্যাগ বেশি উপকারী, কারণ এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এই উপাদান চোখের ফোলাভাব কমাতেও সাহায্য করে। গরম টি-ব্যাগ কয়েক মিনিটের জন্য চোখের পাতার উপর রেখে দিন। দিনে ২-৩ বার এটি ব্যবহার করতে পারেন।
৩. ক্যাস্টর অয়েল:
চুল গজানোর জন্য ক্যাস্টর অয়েল একটি পরিচিত উপাদান হলেও, এটি চোখের অঞ্জনি সারাতেও দারুণ কাজ করে। ক্যাস্টর অয়েলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে পরিষ্কার তুলোর সাহায্যে আলতো করে অঞ্জনির উপর ক্যাস্টর অয়েল লাগান।
৪. পেয়ারা পাতার সেঁক:
পেয়ারা পাতাও অঞ্জনি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সহায়ক। কয়েকটি শুকনো পেয়ারা পাতা হালকা গরম করে নরম কাপড়ে জড়িয়ে নিন। এরপর সেই গরম কাপড়ের সেঁক চোখের পাতায় দিন। এটি অঞ্জনি থেকে দ্রুত স্বস্তি দেবে এবং সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে।
অঞ্জনি হলে যা এড়িয়ে চলবেন:
চোখে অঞ্জনি হলে মেকআপ বা অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। এতে আক্রান্ত স্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
যদি এই ঘরোয়া উপায়গুলো অনুসরণ করার পরেও চোখের অঞ্জনি না কমে, তাহলে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।