পরপর দু’দিন দফায় দফায় হামলা! প্রাণ সংশয়ে পড়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ

শনি ও রবিবার— পরপর দু’দিন নিজের এলাকায় এবং যাতায়াতের পথে দফায় দফায় মারাত্মক হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দু’দিনে পরপর এমন ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছেন তিনি। সোমবার এই পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে এবং জরুরি নিরাপত্তার দাবিতে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এই হেভিওয়েট বিধায়ক।

কোথায় কোথায় আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় সভায় যোগ দিতে যাওয়ার কথা ছিল কুণাল ঘোষের। অভিযোগ, সেই সভায় যাওয়ার পথেই হুগলির উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে তীব্র হামলা চালানো হয়। রড, লাঠি, পাথর ও ইট দিয়ে দেদার ভাঙচুর করা হয় তাঁর গাড়ি। এমনকি গাড়ির কাচে ডিমও ছোড়া হয়। এই হামলায় সামান্য আহতও হন তিনি। সেই যাত্রায় শ্রীরামপুরে না গিয়ে সোজা উত্তরপাড়া থেকে কলকাতায় ফিরে আসেন কুণাল। এরপর ভবানীভবনে যাওয়ার চেষ্টা করেও পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা বাঁধে এবং পরে ইমেলের মাধ্যমে উল্টোডাঙা থানা ও রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান তিনি।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার ফের বড় বিপদের মুখে পড়েন কুণাল ঘোষ। অভিযোগ, রবিবারে কলকাতার ফুলবাগান এলাকায় যখন তিনি একটি স্থানীয় কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন, তখন ১৫-২০ জনের একটি বাইকবাহিনী তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে পথ আটকায় এবং হামলা চালায়। হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে রিভলভার ও হাতুড়ি ছিল বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, বিধায়কের নিরাপত্তারক্ষীদের বাধ্য হয়ে বন্দুক বের করতে হয়। পরে সেখান থেকে কৌশলে গাড়ি ঘুরিয়ে নারকেলডাঙা থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি। কুণালের দাবি, তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা চলছে।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ বিধায়ক টানা দু’দিন এমন রোমহর্ষক আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমস্ত ঘটনার বিবরণ দেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে জরুরি ভিত্তিতে সুরক্ষার আর্জি জানান। আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিলেও আপাতত জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার রাতেও বেলঘাটায় এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার পথে তাঁর ওপর হামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন কুণাল। একের পর এক এমন ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হওয়ায় এখন পুরো রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।