“চোখের জলে ভাসল ঘর”-৫ দিন হাসপাতালে লড়াইয়ের পর বিগ বসের মঞ্চে সৃজলা

শনিবার ‘বিগ বস’ হাউসে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় ‘দাদার দরবার’ পর্বটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। তবে এই এপিসোডের সবথেকে বড় আকর্ষণ ছিল অভিনেত্রী সৃজলা গুহর ঘরে ফিরে আসা। কদিন আগেই একটি টাস্ক চলাকালীন প্রতিযোগী নন্দিনীর ধাক্কায় কাঠের ঘোড়া থেকে মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছিলেন সৃজলা। শরীরে গুরুতর চোট পাওয়ার কারণে তাঁকে টানা পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। সেই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। দর্শকদের একটাই দাবি ছিল, যেন সুস্থ হয়ে দ্রুত শোয়ে ফিরে আসেন তিনি। অবশেষে শনিবার সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাথা উঁচু করে ফের বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করলেন সৃজলা, আর তাঁকে দেখেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি চর্চিত বন্ধু দুর্নিবার।

এদিনের পর্বে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অভিনেতা জিতুকে নির্দেশ দেন কনফেশন রুমে গিয়ে সেখান থেকে একজনকে মূল ঘরে নিয়ে আসতে। জিতু কনফেশন রুমে গিয়ে দেখতে পান সেখানে বসে রয়েছেন সৃজলা। এরপর অত্যন্ত যত্নে তাঁকে ধরে মূল ঘরে নিয়ে আসেন জিতু। সৃজলাকে ঘরে ঢুকতে দেখেই দুর্নিবারের চোখে জল চলে আসে। তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে সৃজলাকে জড়িয়ে ধরে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন। উল্লেখ্য, এর আগেও এই শোয়ের অন্দরে সৃজলা ও দুর্নিবারের বন্ধুত্ব নিয়ে অন্যান্য প্রতিযোগীদের মনে নানা প্রশ্ন জাগতে দেখা গেছে। তাঁদের সম্পর্কটি নিছক বন্ধুত্ব নাকি তার চেয়েও বেশি কিছু, তা নিয়ে ঘরের অন্দরে ও বাইরে কম চর্চা হয়নি।

যদিও এই বিষয়ে দুর্নিবার বা সৃজলা কখনোই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে এর আগে সৃজলার অসুস্থতার খবরে প্রকাশ্যেই চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন দুর্নিবার। এমনকি ক্যামেরার সামনে এসে তিনি এও স্বীকার করেছিলেন যে, সৃজলার কাঠের ঘোড়াটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকার দায়িত্ব তাঁরই ছিল, কিন্তু তিনি তা পালন করতে পারেননি। শনিবারও দুর্নিবার অকপটে স্বীকার করে নেন যে, তিনি যদি সেই সময় দায়িত্ব নিয়ে ঘোড়াটি ধরে থাকতেন, তবে হয়তো এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও এড়ানো সম্ভব হতো।

অন্যদিকে, শোয়ে ফিরে নিজের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা বলতে গিয়ে সৃজলা জানান, তিনি দুর্নিবার এবং সোনামণির আচরণে যথেষ্ট হতাশ হয়েছেন। টাস্কের সময় যখন নন্দিনী তাঁর ঘোড়ার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন সৃজলা বারবার সোনামণিকে ডেকেছিলেন। তাঁর আর্জি ছিল, সোনামণি বা দুর্নিবার যেন কোনোভাবে নন্দিনীকে তাঁর ঘোড়ার সামনে থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু ঠিক সেই সংকটজনক মুহূর্তে তাঁর আশেপাশের কেউ পাশে ছিলেন না। সৃজলার অভিযোগ, নন্দিনী সজোরে তাঁর ঘোড়াটি ধরে আছাড় মারেন, যার জেরে তিনি মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে যান।

এদিন ‘দাদার দরবার’-এ চোখে জল নিয়ে নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন সৃজলা। তিনি বলেন, ‘ঘোড়াটাকে সজোরে সামনের দিকে আছাড় মারা হয়েছিল। আমার ডান পায়ে ফার্স্ট গ্রেড এসিএল টিয়ার (ACL Tear) হয়েছে। আমাকে নিয়মিত ড্রেসিং করাতে হচ্ছে। আমি সম্পূর্ণ একা একটা শহরে পাঁচদিন হাসপাতালে কাটিয়েছি, যেখানে নিজের মুখ বন্ধ করে শুধু একা একা কেঁদেছি। একটু নিজের চেনা মানুষের গলা শোনার জন্য ছটফট করেছি। এমন অভিজ্ঞতা যেন আমার কোনো শত্রুরও না হয়।’