গর্ভাবস্থায় মায়েদের বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়াটাই চিরকাল দস্তুর ছিল। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণা এই পুরনো ধারণা বদলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, গর্ভাবস্থায় হালকা থেকে মাঝারি মানের শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম কেবল মায়ের শরীরকেই ফিট রাখে না, বরং এটি একটি সুস্থ ও মেধাবী শিশুর জন্মের পথও প্রশস্ত করে।
গবেষণায় যা উঠে এসেছে:
বিশ্বের প্রথম সারির গবেষকদের মতে, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ব্যায়াম করলে প্রসবকালীন জটিলতা অন্তত ৩০ শতাংশ কমে যায়। এটি গর্ভবতী নারীদের উচ্চ রক্তচাপ (Preeclampsia) এবং জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।
ব্যায়াম করার প্রধান উপকারিতা:
সহজ প্রসব: নিয়মিত পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ এবং হাঁটাচলা করলে প্রসবের সময় পেশিগুলো নমনীয় থাকে, যা নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ: গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মা সক্রিয় থাকলে শিশুর হৃৎপিণ্ড মজবুত হয় এবং তার মস্তিষ্কের নিউরনগুলো আরও সচল থাকে।
মানসিক স্বাস্থ্য: গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে যে বিষণ্ণতা বা মুড সুইং হয়, ব্যায়াম তা নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে।
দ্রুত রিকভারি: প্রসবের পর শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে এবং আগের চেহারায় ফিরতে ব্যায়াম করা মায়েরা অনেক এগিয়ে থাকেন।
কী ধরনের ব্যায়াম করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে যোগব্যায়াম এবং হালকা স্ট্রেচিং করা সবচেয়ে নিরাপদ। তবে যেকোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি। মনে রাখবেন, গর্ভাবস্থা কোনো রোগ নয়, তাই নিজেকে ঘরবন্দি না রেখে সচল রাখাই এখন সুস্থতার নতুন চাবিকাঠি।





