গরমে তৃপ্তি পেতে হোক, কোনো স্পাইসি খাবারের পর কিংবা আড্ডায় – কোল্ড ড্রিংকসের কোনো বিকল্প নেই। অনেকের বাড়িতেই ফ্রিজে সারা বছর মজুত থাকে কোল্ড ড্রিংকস। কোক জাতীয় পানীয় কিংবা আমের ফ্লেভার – সবই পছন্দ প্রায় সকলের। কিন্তু, জানেন কি এই পানীয় অজান্তে আপনার মারাত্মক ক্ষতি করছে?
স্বাস্থ্য লেখক ওয়েড মেরিডিথ একটি বিশেষ গবেষণা করেন এই বিষয়ে। তিনি জানান, কোকা-কোলার একটি ক্যানের পানীয় পান করার পরবর্তী এক ঘণ্টায় শরীরের ভিতরে কী কী ঘটে। তিনি বলেন,
প্রথম ১০ মিনিট: এক ক্যান কোলার মধ্যে থাকা প্রায় ১০ চামচের মতো চিনি শরীরে প্রবেশ করে। এই পরিমাণ চিনি একসঙ্গে খেলে বমি হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু, পানীয়ের মিশ্রিত ফসফরিক অ্যাসিড এই বমিভাবকে দমিয়ে দেয়।
পরের ২০ মিনিট: রক্তে শর্করার মাত্রা অতি দ্রুত বেড়ে যায়। অগ্ন্যাশয় (Pancreas) ইনসুলিন নিঃসরণ করে এই বিপুল পরিমাণ শর্করাকে কোষে পাঠানোর চেষ্টা করে।
পরের ৪০ মিনিট: শরীরে ক্যাফিন পূর্ণমাত্রায় শোষিত হয়ে যায়। চোখের তারা বর্ধিত হয়, রক্তচাপ বাড়ে। লিভারের মাধ্যমে রক্তে শর্করা মিশতে থাকে। মস্তিষ্কের অ্যাডেনোসাইন রিসেপ্টরগুলো ব্লকড হয়ে যায়, যে কারণে ঘুম ঘুম ভাব প্রতিহত হয়।
তারপর ৪৫ মিনিট: শরীরে ডোপামিন উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। মস্তিষ্কের সুখ প্রদায়ী অংশগুলো উদ্দীপিত হয়। এই পদ্ধতিতে হেরোইনের মতো মাদক শরীরে উদ্দীপিত করে।
৪৫-৬০ মিনিট: ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক দানা বাঁধতে থাকে। এর ফলে মেটাবলিজম আবার হঠাৎ করে অনেকটা বেড়ে যায়। এর সঙ্গে শর্করা এবং কৃত্রিম মিষ্টি মিলে গিয়ে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম নির্গমনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে ক্যালসিয়ামের বেশিরভাগ অংশ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
পরের ১ ঘণ্টা: এর প্রতিক্রিয়া শেষ হয় না। কোল্ড ড্রিংকস পানের ফলে শরীরে শুরু হওয়া এই সকল প্রতিক্রিয়া শান্ত হয়ে যায়। তখন শরীরে শর্করার প্রবল চাহিদা তৈরি হয়। এতে ক্লান্তিবোধ হয় এবং প্রস্রাবের সঙ্গে জরুরি পুষ্টি উপাদানও বেরিয়ে যায়।





