কোলেস্টেরল মানেই বিপদ নয়! কখন ওষুধ খাওয়া জরুরি, কখন নয়, জানুন সবটা

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকা অপরিহার্য। তাই কোলেস্টেরল মানেই যে খারাপ, এমনটা ভাবা ভুল। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। কারণ, উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগজনিত অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের মধ্যে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন।
কোলেস্টেরল ও রক্ত পরীক্ষা:
দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কত, তা একমাত্র রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যায়। আর এই কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেই চিকিৎসকরা সাধারণত কোলেস্টেরল কমানোর জন্য ওষুধ দিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোলেস্টেরল কমাতে কি সত্যিই প্রথমেই ওষুধ খাওয়া উচিত?
কোলেস্টেরল কমাতে কখন ওষুধ জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, প্রথমেই ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে প্রথমেই পরিবর্তন আনতে হয় রোজকার খাদ্যাভ্যাসে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিয়মিত শরীরচর্চারও প্রয়োজন আছে। সঠিক ডায়েট এবং নিয়মিত ব্যায়ামের পরেও যদি কোলেস্টেরলের মাত্রায় কোনো রকম উন্নতি না হয়, তখনই চিকিৎসকরা ওষুধের কথা ভাবেন।
সেই ওষুধ কিন্তু রোগীর কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে তবেই দেওয়া হয়। তার আগে চিকিৎসকরা জেনে নেন রোগীর অন্য কোনো কো-মর্বিডিটি (যেমন – ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ) রয়েছে কিনা। কাজেই, চিকিৎসক না দিলে নিজে ওষুধের দোকান থেকে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ কিনতে যাবেন না। কারণ, ওষুধটির পরিমাপ এবং প্রয়োজনীয়তা প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে আলাদা। অনেক সময় রোগীর একাধিক জটিলতা থাকলে চিকিৎসকেরা ‘কম্বিনেশন মেডিসিন’-ও দিয়ে থাকেন।
কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?
সাধারণত এই ধরনের ওষুধ খেলে বড়সড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে হালকা ব্যথা, পেশি ও পিঠে ব্যথা হতে পারে। খুব কম লোকের ক্ষেত্রেই বমিভাব, মাথাব্যথা বা লিভারের সমস্যার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ওষুধ খাওয়ার পর যদি মনে হয় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তাহলে ২ সপ্তাহের মধ্যেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।