আপনার সঙ্গী হয়তো পাশে নাক ডাকছে, তাতে ঘুমাতে অসুবিধা। অথবা ঘুম আসছে না বলে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ ধরনের কাজ যদি আপনি নিয়মিত করে থাকেন, তাহলে হয়তো অজান্তেই নিজের বড় ক্ষতি করছেন। কানে হেডফোন লাগিয়ে ঘুমানোর আগে এর সম্ভাব্য ক্ষতিকারক দিকগুলো জেনে নিন।
কতটা ক্ষতি হতে পারে?
আপনি যতক্ষণ না হেডফোনের আওয়াজ বা ভলিউম বাড়িয়ে শুনছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কানের ক্ষতি হবে না। অর্থাৎ, খুব উচ্চ আওয়াজে গান শোনা যাবে না। সহনীয় পর্যায়ে গান শুনতে হবে। মনে রাখবেন, এতটা জোরে গান শুনবেন না, যার কারণে আপনার আশেপাশের প্রয়োজনীয় শব্দগুলো শুনতে পাচ্ছেন না।
কানে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম এবং ইনফেকশন
কতক্ষণ কানে হেডফোন লাগিয়ে রাখছেন, সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি সারাদিন শুনে রাতেও লাগিয়ে ঘুমিয়ে যান, তাহলে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। হেডফোনের ইয়ার বাড থেকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হতে পারে। কান ভেজা থাকার কারণে এই ব্যাকটেরিয়া কানের ভেতরের অংশে দ্রুত ছড়িয়ে যেতে পারে, যা কানের সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
ইয়ার ওয়াক্স বা কানের ময়লার সমস্যা
কানে বেশি সময় ধরে হেডফোন লাগিয়ে রাখার কারণে কানের ময়লা (ইয়ার ওয়াক্স বা কানের মোম) স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না। কারণ, হেডফোন পরার কারণে কানের ময়লা আরও ভেতরের দিকে চলে যায়। এর ফলে কানে ইনফেকশন হতে পারে বা কানে কম শুনতে পাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, জোরে গান শোনা এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে হেডফোন পরে থাকার কারণে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে। এমনকি এর ফলে স্থায়ীভাবে কান নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ক্ষতিও হতে পারে।
সুতরাং, আপনার প্রিয় গান বা পডকাস্ট শুনতে গিয়ে কানের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন। সুস্থ থাকতে হেডফোন ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন এবং যতটা সম্ভব কম ভলিউমে ও অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন।





