কম বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, সতর্ক থাকতে হবে যেসব লক্ষণ সম্পর্কে

জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লার মাত্র ৪০ বছর বয়সে আকস্মিক মৃত্যু বিনোদন জগতে শোকের ছায়া ফেলেছে। একজন ফিটনেস সচেতন মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। একসময় বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা হৃদরোগ এখন কম বয়সীদের মধ্যেও ব্যাপক হারে দেখা যাচ্ছে। তাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি লক্ষণ আছে যা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়:

১. চোয়াল, গলা, দাঁত বা মাথা ব্যথা: হৃদরোগের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হলো চোয়াল, গলা, দাঁত এবং মাথায় একটানা ব্যথা হওয়া। যদি এই ধরনের ব্যথা বিনা কারণে হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. বমি বমি ভাব এবং পেটে ব্যথা: চিকিৎসকরা বলছেন, ঘন ঘন বমি হওয়া, মাথা ঘোরা বা পেটে ব্যথার মতো লক্ষণগুলো হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে। এই উপসর্গগুলো হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।

৩. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন: অনিয়মিত বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন যদি কয়েক সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে চলে, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বর্তমান অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে এই ধরনের সমস্যা প্রায়শই দেখা যায়।

৪. কাঁধ এবং বাম বাহুতে ব্যথা: হার্ট অ্যাটাকের আগে অনেকেরই বাম বাহু, পিঠ বা কোমরে ব্যথা অনুভূত হয়। এমন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

৫. শ্বাসকষ্ট: শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া হৃদরোগের একটি সাধারণ লক্ষণ। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাকের প্রায় এক মাস আগে থেকেই এই ধরনের শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

৬. অতিরিক্ত ঘাম: অতিরিক্ত ঘাম হওয়াও হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে। হার্ট ব্লক হলে হৃদপিণ্ডকে রক্ত সঞ্চালনের জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যার ফলে অতিরিক্ত ঘাম হয়।

৭. জোরে নাক ডাকা: জোরে নাক ডাকার সঙ্গে যদি শ্বাসরোধের মতো ঘটনা ঘটে, তবে তা হার্টের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং হৃদরোগের কারণ হতে পারে।

৮. হাত বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া: যখন হৃদপিণ্ড রক্ত পাম্প করতে ব্যর্থ হয়, তখন হাত-পায়ে ফোলা ভাব দেখা যায়। যদি এই ফোলা ভাব বাড়তে থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।