বর্তমান সময়ে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) চেয়ে সিজারিয়ান ডেলিভারির (সিজার) সংখ্যা অনেকটাই বেশি। সিজার ডেলিভারির যেমন কিছু সুবিধা আছে, তেমনই এর বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। আর এই কারণে সিজার নিয়ে সবার মনে অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত প্রশ্নটি হলো, সর্বোচ্চ কতবার সিজার করা নিরাপদ।
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. দীনা লায়লা এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “যদি আপনার সুস্থ বাচ্চা থাকে, তাহলে দুটি বাচ্চা সিজারে নেওয়া যথেষ্ট। বাচ্চা ছেলে না মেয়ে, এর মধ্য দিয়ে কিন্তু সন্তানের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না।”
ডা. লায়লা আরও ব্যাখ্যা করেন, “হয়তো আপনার বাচ্চার কোনো গুরুতর সমস্যা রয়েছে কিংবা এটি আপনার দ্বিতীয় বিয়ে – এমন ভিন্ন গ্রাউন্ডে যদি বাচ্চার প্রয়োজন হয়, তবে তিনবার, চারবার কিংবা পাঁচবার পর্যন্ত সিজার করা যায়।”
সিজারিয়ান ডেলিভারির ঝুঁকি
ডা. লায়লা সতর্ক করে বলেন, “প্রতিবার সিজারের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি কিন্তু বাড়ে।” সিজার করলে সাধারণত জরায়ুর একটি নির্দিষ্ট অংশ কাটা হয়, এবং বাচ্চা সেই কেটে যাওয়া অংশ দিয়ে বের করা হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে, দ্বিতীয় বাচ্চা যখন আসবে, জরায়ু যখন বড় হতে থাকবে, তখন কাটা জায়গাটাতে টান পড়ে।
এর ফলে বড় সমস্যা হলো জরায়ু ফেটে যাওয়া। এমন পরিস্থিতিতে বাচ্চার জীবনহানি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং মায়ের জীবনও চরম ঝুঁকিতে পড়ে।
একবার সিজার হলে, পরবর্তীতে সিজারে ডেলিভারির আশঙ্কা বাড়ে। প্রথম বাচ্চা সিজারে ডেলিভারি হওয়ার পর, পরের সন্তানের নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
সিজারের অন্যান্য জটিলতা
সিজারের ক্ষেত্রে মায়ের রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। রক্তের মাধ্যমেও বিভিন্ন ঝুঁকির সম্ভাবনা বাড়ে। সব থেকে বড় বিপদ হচ্ছে, গর্ভফুল। যখন সিজার করা হয়, তখন অনেক সময় দেখা যায় কাটা জায়গাটায় ফুলটা বসে যায়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে মায়ের শরীর থেকে অনেক রক্ত বের হয়ে যায়, যা মাকে বাঁচানোকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।
ডা. লায়লা জানান, “অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সেবার প্রয়োজন হয়। অনেকেই ফিরে আসেন না আইসিইউ থেকে।”
এই সমস্ত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ডা. দীনা লায়লা জোর দিয়ে বলেন, “এজন্য আপনাদের জন্য বলব, এক্ষেত্রে কেবল প্রয়োজন হলে বাচ্চা নেবেন। অপ্রয়োজনে বারবার সিজারিয়ান ডেলিভারি এড়িয়ে চলুন।”