ওজন কমানোর ইঞ্জেকশনে মরণফাঁদ? কেন সাবধান করছেন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা?

দ্রুত ওজন কমিয়ে স্লিম হওয়ার নেশায় মেতেছে বর্তমান প্রজন্ম। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও টিভিতে রমরমিয়ে চলছে ওজন কমানোর ওষুধ ও ইঞ্জেকশনের ‘অতিরঞ্জিত’ বিজ্ঞাপন। এবার সেই সব জাদুকরী বিজ্ঞাপনের রাশ টানতে কড়া পদক্ষেপ নিল ভারত সরকারের ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ। বিশেষ করে স্থূলতা কমানোর জনপ্রিয় ইঞ্জেকশন GLP-1 রিসেপ্টর প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে কড়া সর্তবার্তা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপনে কেন কোপ সরকারের?

কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল জানিয়েছে, অনেক সংস্থা তাদের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করছে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এই ওষুধ ব্যবহার করছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন কলকাতার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও।

কী বলছেন শহরের নামী চিকিৎসকরা?

বিশিষ্ট ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. আশিস মিত্র বলেন, “এই ওষুধগুলো মূলত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য। যাঁদের BMI ৩৫-এর উপরে বা বিশেষ কোমর্বিডিটি আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে মানুষ আমাদের কাছে এসে নাম ধরে এই ওষুধ লিখতে বলেন, যা অত্যন্ত ভুল ধারণা।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. অনির্বাণ দোলুই আরও বড় বিপদের সঙ্কেত দিয়েছেন। তাঁর মতে:

  • এটি একটি ‘শিডিউল এইচ’ (Schedule H) ওষুধ, যা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা দণ্ডনীয়।

  • এর যথেচ্ছ ব্যবহারে থাইরয়েড টিউমার বা অগ্ন্যাশয় প্রদাহের (Pancreatitis) মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।

  • বিজ্ঞাপনগুলো ‘বডি ইমেজ’ নিয়ে মানুষের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি করছে।

রোগা হতে গিয়ে রোগ ডেকে আনছেন না তো?

বিশিষ্ট চিকিৎসক উৎসব দাসের মতে, এই সব ওষুধে ওজন কমলেও তা শরীরের পেশি বা মাসেল মাস (Muscle Mass) নষ্ট করে দেয়। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি তলানিতে ঠেকে যায়। তিনি মনে করিয়ে দেন, এটি কোনও ‘ম্যাজিক ড্রাগ’ নয় যে নিলেই রাতারাতি ম্যাজিক হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy