সকাল থেকে রাত—ছুটছে মানুষ। কফি, কোল্ড ড্রিঙ্কস বা এনার্জি ড্রিঙ্কসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের আসল আধার ‘জল’। চিকিৎসকেরা বর্তমান প্রজন্মকে বলছেন ‘ডিহাইড্রেটেড জেনারেশন’। কারণ, আমরা জল তখনই খাই যখন প্রচণ্ড তৃষ্ণা পায়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, তৃষ্ণা পাওয়া মানেই হলো আপনার শরীর ইতিমধ্যেই জলের অভাবে ‘সংকেত’ পাঠাতে শুরু করেছে।
শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে বুঝবেন কীভাবে? (লক্ষণসমূহ):
যদি আপনার শরীরে জলের অভাব ঘটে, তবে শরীর নিচের এই সংকেতগুলো দেয়:
-
অকারণ ক্লান্তি: কোনো কাজ না করেও সারাদিন ঝিমুনি ভাব।
-
মাথা ব্যাথা: মস্তিষ্কে জল ও অক্সিজেনের ঘাটতি হলে বার বার মাথা যন্ত্রণা করে।
-
ত্বকের রুক্ষতা: ঠোঁট ফেটে যাওয়া বা ত্বক জেল্লা হারানো।
-
প্রস্রাবের রং: যদি প্রস্রাবের রং হালকা হলুদের বদলে গাঢ় হলুদ হয়, তবে বুঝবেন আপনি মারাত্মক ডিহাইড্রেশনে ভুগছেন।
কতটা জল খাওয়া উচিত?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে গড়ে ৩ থেকে ৪ লিটার জল খাওয়া প্রয়োজন। তবে এটি নির্ভর করে আপনার ওজন এবং পরিশ্রমের ওপর। সহজ হিসাব হলো:
জল খাওয়ার ৩টি গোল্ডেন রুলস:
১. একবারে অনেকটা নয়: একবারে এক লিটার জল না খেয়ে সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে জল খান। এতে কিডনির ওপর চাপ কম পড়ে।
২. বসে জল পান: দাঁড়িয়ে জল খেলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে আঘাত করে এবং শরীরের জয়েন্টের ক্ষতি করতে পারে। সবসময় বসে শান্তভাবে জল খান।
৩. সকালে খালি পেটে: ঘুম থেকে উঠে অন্তত দুই গ্লাস ইষদুষ্ণ জল খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি শরীরের টক্সিন বের করতে জাদুর মতো কাজ করে।
পেশাদার পরামর্শ:
সবসময় সাথে একটি জলের বোতল রাখুন। যদি জল খাওয়ার কথা মনে না থাকে, তবে ফোনে ‘Water Reminder’ অ্যাপ ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, চা বা কফি কিন্তু জলের বিকল্প নয়; উল্টে এগুলো শরীরকে আরও বেশি শুষ্ক করে দেয়।