বাতাসে বসন্তের আমেজ আসুক বা বর্ষার টান— ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেরই নাজেহাল অবস্থা হয়। ঘনঘন হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ লাল হওয়া বা গলার খুসখুসে ভাব— মূলত বাতাসে ভেসে থাকা পরাগরেণু বা ‘পলেন’ থেকেই এই সিজনাল অ্যালার্জির জন্ম। তবে সার্টিফাইড হোলিস্টিক পুষ্টিবিদ জ্যাকলিন জেনোভা জানাচ্ছেন, দামী অ্যান্টি-হিস্টামিন ওষুধের বদলে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য বদল আনলেই এই সমস্যার তীব্রতা কমানো সম্ভব।
১. মধুর জাদুকরী শক্তি
প্রতিদিন এক টেবিল চামচ খাঁটি মধু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি আপনার শরীরকে স্থানীয় পরাগরেণুর সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত করে তোলে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি শরীরের ইমিউনিটি বাড়িয়ে অ্যালার্জির প্রবণতা কমিয়ে দেয়।
২. কোয়ারসেটিন সমৃদ্ধ খাবার
অ্যালার্জির মূল শত্রু হলো শরীরে ‘হিস্টামিন’ নিঃসরণ। পেঁয়াজ, ব্রকোলি, গ্রিন টি এবং লেবুর মতো সাইট্রাস ফলে থাকে ‘কোয়ারসেটিন’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি প্রাকৃতিক উপায়ে হিস্টামিন নিয়ন্ত্রণ করে নাক ও চোখের জ্বালাপোড়া কমায়।
৩. আনারসের ব্রোমেলেন এনজাইম
আনারস কেবল সুস্বাদু ফলই নয়, এতে থাকা ‘ব্রোমেলেন’ এনজাইম শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ কমাতে দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে যাদের সাইনোসাইটিসের সমস্যা আছে, তাদের জন্য আনারস এক পশলা স্বস্তির মতো কাজ করে।
৪. অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ডায়েট
শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে রসুন, আদা এবং সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখুন। রসুন প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক হিসেবে কাজ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া প্রোবায়োটিক খাবার (যেমন দই) পেটের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি অ্যালার্জি প্রতিরোধেও সহায়ক।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
সিজনাল অ্যালার্জি হয়তো পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন, কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনার জীবনযাত্রাকে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে পারে। ২০২৬-এর এই ব্যস্ত সময়ে সুস্থ থাকতে প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।