অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ আর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস—এই ত্র্যহস্পর্শে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের হৃদযন্ত্র বা হার্ট। কিন্তু জানেন কি, জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলার চেয়েও হৃদযন্ত্রের ধমনীকে সচল রাখতে যোগাসন অনেক বেশি কার্যকর?
চিকিৎসকদের মতে, কার্ডিয়োভাস্কুলার স্বাস্থ্য (Cardiovascular Health) উন্নত করতে নিয়মিত প্রাণায়াম এবং নির্দিষ্ট কিছু আসন রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় ৫টি অব্যর্থ আসন:
১. তাড়াসন (Mountain Pose): এটি অত্যন্ত সহজ হলেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে বুক চওড়া করে শ্বাস নিলে হার্টে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে।
২. ভুজঙ্গাসন (Cobra Pose): উপুড় হয়ে শুয়ে পেটে ভর দিয়ে বুক তুলে এই আসনটি করলে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের পেশি প্রসারিত হয়। এটি ধমনীর ব্লকেজ প্রতিরোধে সহায়ক।
৩. সেতুবন্ধন আসন (Bridge Pose): পিঠের ওপর ভর দিয়ে শরীরকে সেতুর মতো তুলে ধরলে রক্ত সরাসরি হৃদপিণ্ডে পৌঁছাতে সুবিধা পায়। এটি দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস কমিয়ে হার্ট রেট স্বাভাবিক রাখে।
৪. পশ্চিমোত্তানাসন (Seated Forward Bend): বসে পা ছড়িয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া। এই আসনটি করলে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমায়।
৫. শবাসন (Corpse Pose): সব আসনের শেষে এটি বাধ্যতামূলক। শরীরকে পুরোপুরি শিথিল করে এই আসন করলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং কার্ডিয়োভাস্কুলার সিস্টেম বিশ্রাম পায়।
কেন যোগাসনই সেরা?
অক্সিজেনের প্রবাহ: সঠিক নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত যোগাসনে শরীরের ‘ব্যাড কোলেস্টেরল’ কমে, যা হার্টের জন্য আশীর্বাদ।
মানসিক শান্তি: যোগাসন ‘কর্টিসল’ হরমোন কমিয়ে হৃদযন্ত্রকে শান্ত রাখে।
সতর্কতা:
যাদের আগে থেকেই হার্টের সিরিয়াস সমস্যা আছে বা সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হয়েছে, তারা কোনো আসন করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।