ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথেই বাড়ছে সংক্রমণের ভয়। বর্তমানে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে হাম বা মিজেলস (Measles)। এটি কেবল সাধারণ জ্বর বা র্যাশ নয়, বরং একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী রোগ। সময়মতো সতর্ক না হলে ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, এমনকী মস্তিষ্কের ক্ষতি থেকে শুরু করে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে।
বাতাসেই বিপদ! আপনি কি নিরাপদ? হামের ভাইরাস এতটাই শক্তিশালী যে, কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দিলে সেই বাতাসে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত জীবাণু বেঁচে থাকে। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তি ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দীর্ঘক্ষণ পরেও আপনি ওই বাতাসে শ্বাস নিলে সংক্রমিত হতে পারেন। পরিসংখ্যান বলছে, টিকা নেওয়া না থাকলে আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই এই রোগে আক্রান্ত হন।
লক্ষণগুলো চিনে নিন (Symptoms): আপনার শরীরে কি নিচের এই লক্ষণগুলো দেখা দিচ্ছে? তবে অবহেলা করবেন না:
-
১০১° থেকে ১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত প্রচণ্ড জ্বর।
-
একটানা কাশি এবং নাক দিয়ে জল পড়া।
-
চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
-
মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট)।
-
মুখ বা চুলের গোড়া থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে র্যাশ।
চিকিৎসা নেই, আছে সচেতনতা: মনে রাখবেন, হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই বড় উপায়। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
আক্রান্ত হলে কী করবেন? যদি মনে হয় আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ হামে আক্রান্ত, তবে সরাসরি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভিড় করবেন না। এতে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় থাকে। বদলে: ১. দ্রুত চিকিৎসকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করুন। ২. সবসময় মাস্ক ব্যবহার করুন। ৩. হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা হাতের কনুই ব্যবহার করুন। ৪. সাবান-জল দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোন। ৫. ব্যবহৃত বাসন বা গ্লাস অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না। ৬. বাড়ির দরজার হাতল, টেবিল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়মিত জীবাণুমুক্ত (Sanitize) করুন।
সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতাই পারে একটি বড় বিপর্যয় রুখে দিতে।