স্বাভাবিকভাবে প্রতিটি নারীর ডিম্বনালী, জরায়ু এবং যোনিপথ থেকে সামান্য পরিমাণে স্বচ্ছ বা সাদা স্রাব নিঃসৃত হতে পারে। কিন্তু যখন এই স্রাব অতিরিক্ত হয়, তখন তা ‘লিউকোরিয়া’ বা অস্বাভাবিক সাদাস্রাব নামে পরিচিত হয়। অতিরিক্ত স্রাবের কারণে যৌনাঙ্গে স্যাঁতস্যাঁতে ভেজা অনুভূতি, চুলকানি, এবং কাপড়ে বাদামি বা হলদে দাগ তৈরি হতে পারে। এই বিব্রতকর পরিস্থিতি দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিকতা ও স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট করে দেয়।
কখন সাদাস্রাব স্বাভাবিক, কখন অস্বাভাবিক?
বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন কারণে সামান্য সাদাস্রাব হতে পারে, যা চিকিৎসার প্রয়োজন নাও হতে পারে। স্বাভাবিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
জন্মের পর: নবজাতক মেয়েশিশুদের ১ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সাময়িক সাদাস্রাব।
-
মাসিকের আগে ও পরে: বয়ঃসন্ধিকালে মাসিক শুরুর আগে ও পরে কয়েকদিন সামান্য স্রাব।
-
অন্যান্য কারণ: জন্মনিয়ন্ত্রক পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, গর্ভাবস্থা, অথবা গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা।
অপুষ্টি, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও অনেক সময় সাদাস্রাব বাড়িয়ে তোলে। উপরে উল্লেখিত কারণগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, তবে রোগী চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
চিকিৎসা জরুরি যখন:
যদি স্বাভাবিক কারণগুলি ছাড়া অন্য কোনো শারীরিক কারণে সাদাস্রাব হয়, তবে উপযুক্ত চিকিৎসা অবশ্যই প্রয়োজন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক সাদাস্রাবের প্রধান কারণ হলো জীবাণু সংক্রমণ। আমাদের দেশে এই সমস্যার জন্য দায়ী ৪টি প্রধান যৌন-সংক্রামক রোগ (STI) হলো:
-
ক্যান্ডিডিয়েসিস (Candida/Yeast Infection)
-
ট্রাইকোমোনিয়েসিস (Trichomoniasis)
-
গনোরিয়া (Gonorrhea)
-
ক্লামিডিয়াল ইনফেকশন (Chlamydial Infection)
দ্রুত প্রতিকার ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন:
অস্বাভাবিক সাদাস্রাবের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে হলে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্যাভ্যাসে মনোযোগ দিতে হবে:
-
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত পরিষ্কার, ১০০ শতাংশ সুতির অন্তর্বাস পরুন। কুসুম গরম জল ও কম ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। কোনো প্রকার সুগন্ধি স্প্রে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
-
খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য: পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। খাদ্য তালিকায় যেন রসালো ফল ও টাটকা শাকসবজি অবশ্যই থাকে।
-
মানসিক স্বাস্থ্য: মানসিক দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখুন।
মনে রাখবেন, ব্যক্তিগত অপরিচ্ছন্নতা, অপুষ্টি এবং মানসিক চাপ এই সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। সমস্যা দেখা দিলে তা জটিল হওয়ার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করুন। দেরি করা একেবারেই উচিত নয়।