দেহের ওজন বৃদ্ধি বর্তমান সময়ের একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে এর মূল কারণ হলো আমাদের সকালের কিছু বদভ্যাস। সময় থাকতে যদি এই ভুলগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা যায়, তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা অনেক সহজ হবে।
দেহের ওজন বৃদ্ধি করতে পারে এমন ৫টি সকালের অভ্যাস এবং তা সমাধানের উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কম বা অতিরিক্ত ঘুম
রাতে অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা দেহের ওজন বৃদ্ধি করতে পারে, আবার ঘুম খুব কম হলেও ওজন বাড়ে।
-
কারণ: উভয় ক্ষেত্রেই হরমোনের তারতম্য হয় এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে, কম ঘুমালে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল (Cortisol) বাড়ে, যা ফ্যাট স্টোরেজ বাড়ায়।
-
করণীয়: দেহের সঠিক ওজন বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সঠিক মাত্রায় ঘুম প্রয়োজন।
২. অন্ধকারে প্রস্তুতি নেওয়া (আলো এড়িয়ে চলা)
ঘুম থেকে ওঠার পর ঘর অন্ধকার থাকতেই রেডি হওয়া বা দিনের আলো এড়িয়ে চলার অভ্যাস থাকলে তা ওজন বাড়াতে পারে।
-
কারণ: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে সূর্যের আলো শরীরে পড়লে বিপাক ক্রিয়া সঠিক মাত্রায় কার্যকর থাকে।
-
করণীয়: ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জানালা-দরজা খুলে দিন এবং পর্দা সরিয়ে দিন। প্রতিদিন সকালে ২০ থেকে ৩০ মিনিট দিনের আলোতে থাকলেই আপনার দিনটি স্বাস্থ্যকরভাবে শুরু হবে এবং দেহের সঠিক ওজন বজায় রাখা সহজ হবে।
৩. বিছানা অগোছালো রাখা
সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি অগোছালো বিছানা রেখেই অন্য কাজে চলে যাওয়ার অভ্যাস থাকে, তবে এই অভ্যাস বাদ দিন।
-
গবেষণা: ইউএস ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, যারা সকালে বিছানা গুছিয়ে তারপর দিনের কাজ শুরু করেন, তাদের দিনটি ভালোভাবে শুরু হয়। এই ছোট্ট অভ্যাস সারাদিনের শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।
-
করণীয়: প্রতিদিন সকালে মাত্র পাঁচ মিনিটে বিছানা গুছিয়ে দিনটি শুরু করুন।
৪. নিয়মিত নিজের ওজন না মাপা
দেহের ওজনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়মিত ওজন মাপা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
-
কারণ: আপনি যদি প্রতিদিন নিজের দেহের ওজনের ওপর চোখ রাখেন, তাহলে যেকোনো ছোট পরিবর্তন সহজেই ধরতে পারা যায়। এটি আপনাকে খাদ্য ও ব্যায়ামের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে সাহায্য করে।
-
করণীয়: প্রতিদিন সকালে শৌচকর্মের পর এবং নাশতার আগে একবার ওজন মেপে নেওয়া উচিত।
৫. সঠিক পরিমাণে নাশতা না করা
অনেকেই সকালের নাশতা একেবারেই বাদ দিয়ে দেন বা খুবই সামান্য নাশতা করেন। এটি দিনের পরবর্তী সময়ে দেহের ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
-
ক্ষতি: সকালের নাশতা বাদ দিলে দিনের পরবর্তী সময়ে ক্ষুধা বাড়ে এবং দুপুরের খাবারে অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়। একইভাবে, অতি সামান্য নাশতা করলেও খুব দ্রুত আবার ক্ষুধা পেয়ে যায়।
-
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: সকালে প্রচুর পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর নাশতা করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রায় ৬০০ ক্যালোরির সমপরিমাণ চর্বিহীন প্রোটিন, ফাইবার-সমৃদ্ধ কার্বোহাইড্রেট ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান (যেমন ডিম, ওটস, ফল, বাদাম) থাকা উচিত নাশতায়।