সারাদিন পর্যাপ্ত জল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য আশীর্বাদ, কিন্তু রাতের বেলা এই অভ্যেসটিই আপনার শান্তির ঘুমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকেই রাতে শোওয়ার ঠিক আগে অনেকটা জল খেয়ে নেন, যার ফলে মাঝরাতে বারবার টয়লেটে যেতে হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘নোকটুরিয়া’ (Nocturia)। এর ফলে শুধু যে ঘুম নষ্ট হয় তা-ই নয়, দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ ও হার্টের সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
অধিকাংশ চিকিৎসকের মতে, রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে চাইলে বিছানায় যাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে জল খাওয়া শেষ করা উচিত।
কেন এই সময়সীমা জরুরি?
কিডনিকে বিশ্রাম দেওয়া: শোওয়ার ঠিক আগে জল খেলে কিডনিকে মাঝরাতেও সক্রিয় থাকতে হয় রক্ত ছাঁকতে। ২ ঘণ্টা আগে জল খেলে শরীর অতিরিক্ত জল আগেই বের করে দেওয়ার সুযোগ পায়।
গভীর ঘুম (REM Sleep): বারবার টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘুম ভাঙলে শরীরের ‘ডিপ স্লিপ’ ব্যাহত হয়, যার প্রভাব পড়ে পরের দিনের কর্মক্ষমতায়।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স রোধ: ভরা পেটে জল খেয়ে শুয়ে পড়লে অনেকের বুক জ্বালা বা অ্যাসিডের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রাতের জলপানের কিছু ‘গোল্ডেন টিপস’:
১. চুমুক দিয়ে খান: রাতে হঠাৎ খুব তৃষ্ণা পেলে এক গ্লাস জল না খেয়ে সামান্য কয়েক চুমুক জল দিয়ে মুখ ভিজিয়ে নিন।
২. লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন: রাতের খাবারে নুন বেশি থাকলে শরীরে জলের চাহিদা বাড়ে। তাই ডিনারে নুন কম রাখলে রাতে জল খাওয়ার প্রবণতাও কমবে।
৩. সন্ধ্যায় পরিমাণ বাড়ান: সারাদিনের প্রয়োজনীয় জলের কোটা বিকেলের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন, যাতে রাতের জন্য খুব অল্প পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে।
[Image showing a clock indicating 2 hours gap before sleep with a water glass]
ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র:
যাদের ডায়াবেটিস আছে বা হার্টের বিশেষ ওষুধ চলে, তারা জল খাওয়ার সময় নিয়ে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। এছাড়া গর্ভাবস্থায় বা প্রস্টেটের সমস্যা থাকলেও এই নিয়ম কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।