পিত্তথলিতে পাথর, কাদের ঝুঁকি বেশি, কখন সতর্ক হবেন? জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যা আজকাল বেশ সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ছোট থেকে বড়, বহু মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। পেটে ব্যথা দিয়ে এর উপসর্গ শুরু হলেও, এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রথম থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হওয়ার প্রবণতা বেশি এবং কীভাবে সতর্ক থাকা যায়, তা জেনে রাখা প্রয়োজন।

পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা কাদের বেশি থাকে?
কিছু নির্দিষ্ট কারণে কিছু মানুষের পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে। নিচে এমন কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো:

১. মহিলাদের ক্ষেত্রে: পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। এর একটি কারণ হতে পারে হরমোনগত পরিবর্তন। অনেক সময় মহিলারা দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখেন, যা থেকেও এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

২. ৪০ বছর বা তার বেশি বয়স: সাধারণত, ৪০ বছর বয়স পার করে গেলে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এই বয়সে পৌঁছানোর পর জল পান করার পরিমাণ বাড়ানো এবং খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত।

৩. পারিবারিক ইতিহাস: যদি পরিবারের কোনো সদস্যের (যেমন বাবা-মা বা ভাই-বোন) পিত্তথলিতে পাথরের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে আপনারও এই সমস্যা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এটি একটি জেনেটিক লিঙ্ক নির্দেশ করে।

৪. ওজনের আকস্মিক তারতম্য: যাদের শরীরের ওজনে খুব অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে, অর্থাৎ হঠাৎ করে ওজন বেড়ে যায় বা দ্রুত কমে যায়, তাদের ক্ষেত্রে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এক্ষেত্রে জরুরি।

৫. অতিরিক্ত মদ্যপান: যারা নিয়মিত মদ্যপান করেন এবং যাদের শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা বেশি থাকে, তাদের পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অ্যালকোহল যকৃতের কার্যক্ষমতা এবং পিত্তের উপাদানকে প্রভাবিত করতে পারে।

৬. ডায়াবেটিসের সমস্যা: যারা ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রেও পিত্তথলিতে সমস্যা বেশি দেখা যায়। রক্তে শর্করার অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা পিত্তথলিতে পাথরের কারণ হতে পারে।

কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
পর্যাপ্ত জল পান: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা শরীরকে ডিহাইড্রেটেড হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং পিত্তরসকে তরল রাখতে সাহায্য করে।

সুষম খাদ্য: ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, ফলমূল, শাকসবজি বেশি করে খান। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করুন।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। হঠাৎ করে ওজন কমানো বা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না।

মদ্যপান পরিহার: অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: যদি উপরোক্ত কোনো ঝুঁকির কারণ আপনার মধ্যে থাকে, তাহলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পেটে ব্যথা বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাপনই পিত্তথলিতে পাথরের মতো সমস্যা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার মূল চাবিকাঠি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy