পাইলসের যন্ত্রণা কতটা অসহ্য, তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। মলত্যাগের সময় রক্তপাতও হতে পারে এই রোগের একটি সাধারণ লক্ষণ। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। পাইলস হলে মলদ্বারের ভেতরের রক্তনালীগুলি ফুলে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হলে সেই ফোলা অংশ থেকে রক্তপাত হতে পারে। তাই পাইলস নিয়ে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি। পাইলসের কষ্ট কমাতে এবং সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন ৫টি খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করবেন, তা জেনে নিন:
১. পর্যাপ্ত জল পান করুন:
সুস্থ জীবনের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অপরিহার্য। পাইলসের সমস্যা দূর করতেও এর কোনো বিকল্প নেই। শরীরে জলের অভাব হলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত জল পান করলে মল নরম থাকে এবং শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে পাইলসের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। তাই পাইলসের সমস্যায় দিনে অন্তত তিন লিটার জল পান করার অভ্যাস করুন।
২. নিয়মিত ভুসি খান:
পাইলস থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ভুসি খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। ভুসিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা আমাদের অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে মল নরম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস জলে দুই চা চামচ ভুসি ভিজিয়ে খান। এটি পাইলসের সমস্যা কমাতে সহায়ক হবে।
৩. রাতে রুটি খান:
আমাদের মধ্যে অনেকেরই তিন বেলা ভাত খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে পাইলসের সমস্যা থাকলে রাতের বেলা ভাতের পরিবর্তে রুটি খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারণ ভাতের তুলনায় রুটিতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। এটি মল নরম করতেও সহায়ক। তাই পাইলস দূর করার জন্য রাতের খাবারে রুটিকে প্রাধান্য দিন।
৪. ওটস রাখুন খাবারের তালিকায়:
ওটস একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি যেমন উপকারী, তেমনই পাইলসের রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক। ওটসে প্রচুর ফাইবার থাকে। নিয়মিত ওটস খেলে হজম এবং মলত্যাগে কোনো সমস্যা হয় না। ফলে পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হয়। তাই পাইলসের সমস্যা থাকলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ওটস অন্তর্ভুক্ত করুন।
৫. ফল ও শাক-সবজি:
ফল ও শাক-সবজি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শুধু পাইলস নয়, যেকোনো রোগ নিরাময়ে এই খাবারগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। তাই পাইলসের সমস্যা দূর করার জন্য নিয়মিত ফল ও শাক-সবজি খাওয়া অপরিহার্য।
এই পাঁচটি খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করে এবং সঠিক জীবনযাপন পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি পাইলসের কষ্ট অনেকাংশে কমাতে পারেন। তবে সমস্যা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।