নবজাতকদের জন্য জল কতটা নিরাপদ জানতে চান? যা বলছে গবেষক

প্রত্যেক বাবা-মা তাঁদের শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল থাকেন। বিশেষ করে, নবজাতককে কী খাওয়ানো উচিত, কী নয়—এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই জানেন না শিশুকে কখন জল দেওয়া উচিত। কেউ কেউ ভাবেন, যখন খুশি জল দেওয়া যায়, কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। চিকিৎসকদের মতে, ৬ মাসের আগে শিশুকে জল দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। কেন? এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

৬ মাসের আগে জল কেন নয়?
আমরা যেসব তরল খাবার—জল, ফলের রস, ঠান্ডা পানীয়—গ্রহণ করি, তা শরীরে শোষিত হয় এবং অপ্রয়োজনীয় অংশ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তবে যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জল পান করা হয়, তাহলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে প্রস্রাবজনিত সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই কারণেই চিকিৎসকরা ৬ মাসের আগে শিশুকে জল দিতে নিষেধ করেন।

নবজাতকের সঠিক পুষ্টি কী হওয়া উচিত?
✅ ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ দেওয়া উচিত।
✅ যদি কোনো কারণে বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব না হয়, তাহলে ফর্মুলা দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
❌ কোনো অবস্থাতেই ৬ মাসের আগে জল দেওয়া ঠিক নয়।

শিশুর প্রস্রাব বেশি হলে কী করবেন?
অনেক বাবা-মা উদ্বিগ্ন হন যে শিশু ঘন ঘন প্রস্রাব করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি স্বাভাবিক বিষয়। বুকের দুধ খাওয়ার পর নবজাতক দিনে ১৫ বারের বেশি প্রস্রাব করতে পারে। এতে চিন্তার কিছু নেই, কারণ শরীরে প্রয়োজনীয় দুধ শোষিত হওয়ার পর বাড়তি অংশ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

৬ মাসের পর শিশুকে কী কী খাওয়ানো যেতে পারে?
✔ ডাবের জল: ৬ মাসের পর শিশুকে ডাবের জল দেওয়া যেতে পারে। এটি বুকের দুধের পরেই একটি চমৎকার পানীয়, যা জরুরি জল ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে।
✔ গরুর দুধ: ৬ মাসের পর থেকে গরুর দুধ খাওয়ানো শুরু করা যেতে পারে।
✔ ফল: শিশুকে গোটা ফল খাওয়ানো যেতে পারে, যা তার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করবে।

🚫 তবে শিশুকে চা-কফি একেবারেই দেওয়া উচিত নয়।
❌ এগুলি ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং শিশুর খিদে কমিয়ে দিতে পারে।
❌ ফলে শিশুর ওজন বৃদ্ধিতেও সমস্যা হতে পারে।

নতুন বাবা-মায়ের জন্য পরামর্শ
আপনার শিশু স্বাস্থ্যকরভাবে বড় হোক, সঠিক পুষ্টি পাক—সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ৬ মাসের আগে জল না দেওয়াই ভালো। বরং শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান এবং যেকোনো খাদ্য সংক্রান্ত পরিবর্তনের আগে ডাক্তারদের পরামর্শ নিন।

👉 শিশুর সুস্থতার জন্য সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন! 🍼

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy