ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো বিধ্বংসী পরিস্থিতি তৈরি না হলেও, ওমিক্রনের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ আবারও স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা অত্যন্ত আবশ্যক। বিগত দুই বছরে কোভিডের আতঙ্কে দিন কাটানোর পর অনেকেই স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসে কিছু পুরনো নিয়মে ফিরে গেছেন। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সুষম আহার, পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীর চর্চার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এই বছর যাতে ভালো অভ্যাসের ছন্দপতন না ঘটে, তার জন্য স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। সারাবছর সুস্থ থাকতে যে ভুলগুলো করা যাবে না, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. জাঙ্ক বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন:
স্বাদ বদলের জন্য মাঝে মধ্যে জাঙ্ক ফুড খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু এটিকে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না। জাঙ্ক ফুড মানেই অতিরিক্ত ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট এবং প্রক্রিয়াজাত চিনি গ্রহণ করা। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া, স্থূলতা এবং হার্টের সমস্যার মতো একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগের সূত্রপাত হতে পারে। জাঙ্ক ফুড খেয়ে শরীরে চিনির পরিমাণ বেড়ে গেলে তা হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটের অভাব দেখা দেয়, যা মেটাবলিজমকে প্রভাবিত করে এবং অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরির ক্ষমতা হ্রাস করে।
সুষম খাদ্যের জন্য করণীয়:
নানা রকমের শাকসবজি খান।
প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন মাংস, ডিম, পোল্ট্রি, ডাল, শস্য, বিনস খাদ্যতালিকায় রাখুন।
বাদাম ও নানা রকমের পুষ্টিকর বীজ খেতে পারেন।
প্রয়োজনে তুলনামূলক কম প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন পাউরুটি, চিজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস বা প্রিমেড ফ্রোজেন মিল খেতে পারেন।
সকালের নাস্তায় এক কাপ ব্লুবেরি, দুপুরের খাবারে পালং শাক, কচি গাজর, স্ন্যাকস হিসেবে সেলেরি এবং রাতের খাবারে ব্রোকোলি যোগ করতে পারেন।
২. পর্যাপ্ত জল পান ও চিনিযুক্ত পানীয় পরিহার:
প্রচুর পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি। চিনিযুক্ত পানীয় কম পান করুন। এক গ্লাস জলে শশা, পুদিনা পাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে খেলে তা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. নিজেকে চাপমুক্ত রাখুন:
নিত্য জীবনযাপনে ওঠা-পড়া লেগেই আছে, তাই সাময়িক মন খারাপ হতেই পারে। কিন্তু সব সময় বিমর্ষ হয়ে থাকা চলবে না। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের অসুখ, ওজন বেড়ে যাওয়া ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। নিজেকে চাপমুক্ত রাখতে মেডিটেশন, যোগাসন, ডিপ ব্রেদিং (গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস), এবং শরীরচর্চা করতে পারেন। অবসরে নিজের পছন্দের কাজ করলে মন ভালো থাকবে।
৪. মাত্রাতিরিক্ত শরীরচর্চা পরিহার করুন:
প্রত্যেক সপ্তাহে সাড়ে তিন ঘন্টা করে শরীরচর্চা যথেষ্ট। কিংবা সপ্তাহের পাঁচ দিন পঁয়তাল্লিশ মিনিট করে শরীরচর্চা করা যেতে পারে। কখনও শরীর ভালো না থাকলে বা হঠাৎ অসুস্থতা বোধ করলে বিশ্রাম নিন। জোর করে শরীরচর্চা করলে তার ফল মারাত্মক হতে পারে। শরীরের সক্ষমতা বুঝে ব্যায়াম করুন।
৫. অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করুন:
মহামারীর কারণে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি আসক্তি কয়েকগুণ বেড়েছে। পড়াশোনা, কাজ কিংবা মনোরঞ্জন – দিনের অধিকাংশ সময় কাটছে স্ক্রিনের সামনে বসে। ঘুমোতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকছেন, যার ফলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকে আবার অফিসের কাজ বাড়িতে নিয়ে আসছেন বা ওয়ার্ক ফ্রম হোমে সময়ের হিসাব থাকছে না। কম ঘুম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব শরীরকে দুর্বল করে তোলে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেয়ে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে কাপের পর কাপ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করা উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে দিনে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। পাশাপাশি অন্তত ৫ থেকে ১৫ মিনিট রোদে পোহানোও উপকারী। এতে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে।