ময়দার পুরে চিকেন বা সবজির মিশ্রণ, সঙ্গে গরম স্যুপ আর টকটকে লাল চাটনি—এই মুখরোচক খাবারটিই গত কয়েক দশকে ভারতে প্রবল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সহজলভ্যতা এবং সুস্বাদু স্বাদের কারণে এর চাহিদা এখন তুঙ্গে। আর এই জনপ্রিয়তার সুযোগে শহরের অলিতে-গলিতে রাস্তার ধারে সারি সারি মোমোর দোকান গজিয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, প্রতিদিন পেট ভরাতে যে মোমো খাচ্ছেন, তা আসলে কতটা বিপজ্জনক। সম্প্রতি পুসার ‘ইনস্টিটিউট অব হোটেল ম্যানেজমেন্ট, কেটারিং অ্যান্ড নিউট্রিশন’ এই বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালায়, আর তাতেই মোমো সম্পর্কে কিছু মারাত্মক তথ্য উঠে এসেছে।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, স্ট্রিট ফুডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে যে খাবারগুলো, মোমো তার মধ্যে অন্যতম। যদিও অনেকে এটিকে সেদ্ধ জাতীয় খাবার ভেবে চপ, রোল বা কাটলেটের থেকে বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করেন, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাস্তার ধারের মোমোর দোকানগুলোতে কম দামে মোমো সরবরাহ করার জন্য পুরের মধ্যে প্রচুর নিম্নমানের রাসায়নিক মেশানো হয়, যা কেবল ক্ষতিকারকই নয়, লিভারের জন্য বিষাক্তও বটে।
মোমোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা রাসায়নিকের ভয়
-
ময়দা ব্লিচিং: মোমো তৈরি হয় প্রধানত ময়দা থেকে। এই ময়দাকে অস্বাভাবিকভাবে সাদা এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে তাতে মেশানো হয় বেনজয়েল পারক্সাইড (Benzoyl Peroxide)-এর মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক।
-
নরম ও তেলতেলে: মোমোকে নরম ও অতিরিক্ত তেলতেলে করতে এর সঙ্গে আরও মেশানো হয় অ্যালোক্সেন (Alloxan)-এর মতো মারাত্মক রাসায়নিক।
-
স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব: এই রাসায়নিকগুলো নিয়মিত শরীরে গেলে হজম প্রক্রিয়া (বিপাকক্রিয়া) এবং লিভারের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ব্যাকটেরিয়া ও রোগের উৎস
এই সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে যে, রাস্তার মোমোর মধ্যে সালমোনেলা (Salmonella)-সহ এমন কিছু ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো টাইফয়েড, বদহজম, ডায়রিয়া এবং পেটের গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়াও, অনেক জায়গার দোকানে বাসি-পচা সবজি বা মাংসের পুর ব্যবহার করা, স্যুপ ও চাটনিতে অস্বাস্থ্যকর উপাদান ও নোংরা জল মেশানোর প্রবণতা তো আছেই।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর মোমো নিয়মিত খাওয়া থেকে আজই সাবধান হন। নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনে বাড়িতে স্বাস্থ্যকর উপায়ে মোমো বানিয়ে খান।