আধুনিক জীবনযাত্রার কিছু সাধারণ অভ্যাস নীরবে আমাদের হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে চলেছে। এই অভ্যাসগুলো সম্পর্কে সচেতন না থাকলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু ক্ষতিকর অভ্যাসের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যা হার্টের স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে তোলে।
কম ঘুম:
অতিরিক্ত কাজের চাপে অনেকেই ঘুমের সঙ্গে আপোস করেন। কিন্তু দিনের পর দিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তা কেবল শারীরিক ক্লান্তিই নয়, হৃদযন্ত্রেরও গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। কম ঘুম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও জাঙ্ক ফুড:
নিয়মিত এবং অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল পান করলে তা সরাসরি হার্টের পেশিগুলোকে দুর্বল করে দেয়। একইভাবে, প্রক্রিয়াজাত বা জাঙ্ক ফুড বেশি খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ধমনী ব্লক করে হৃদরোগের কারণ হতে পারে।
মানসিক চাপ এবং অবহেলিত মানসিক স্বাস্থ্য:
দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে তা হৃদযন্ত্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। আপাতদৃষ্টিতে মানসিক স্বাস্থ্য এবং হার্টের স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক না থাকলেও, বাস্তবে দুটির গভীর সংযোগ রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে হার্টের সুস্থতাও নিশ্চিত করা যায়।
তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার:
তামাকজাত দ্রব্য, যেমন সিগারেট বা বিড়ি সেবন করলে তা হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে থাকা বিষাক্ত উপাদানগুলো রক্তনালী সংকুচিত করে এবং রক্তচাপ বাড়ায়, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
উচ্চ রক্তচাপ এবং অতিরিক্ত ওজন:
উচ্চ রক্তচাপকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এটি হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। একইভাবে, অতিরিক্ত ওজন হার্টকে বেশি কাজ করতে বাধ্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অপরিহার্য।
দুর্বল দাঁতের স্বাস্থ্য:
অনেকেই মুখের স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করেন। কিন্তু মুখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের গভীর সংযোগ রয়েছে। মুখের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহে মিশে হৃদযন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা এবং চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হার্টের সুস্থতার জন্যও জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বেছে নিলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।