রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দেওয়া চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে এবার উঠে এল চাঞ্চল্যকর মোড়। শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েই ঘাতকদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে পুলিশ। বালি টোলপ্লাজায় করা একটি সামান্য ‘UPI’ পেমেন্টই এখন এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের জট খোলার প্রধান চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ৬ মে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান চন্দ্রনাথ রথ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অপারেশনের ঠিক আগে ঘাতকদের ব্যবহৃত সেই রহস্যময় ‘নিসান মাইক্রা’ গাড়িটি বালি টোলপ্লাজা অতিক্রম করেছিল। সূত্রের খবর, টোল দেওয়ার সময় অভিযুক্তরা নগদ টাকার বদলে ডিজিটাল পেমেন্ট বা UPI ব্যবহার করেছিল। আর সেই পেমেন্ট আইডির সূত্র ধরেই মূল অভিযুক্তদের প্রোফাইল ও অবস্থান চিহ্নিত করতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই বালি টোলপ্লাজার সেই রাতের সিসিটিভি ফুটেজ (CC Footage) সংগ্রহ করেছে পুলিশ, যেখানে গাড়িটি এবং তার ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, খুনের পরিকল্পনাটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং পেশাদার ছিল। এই খুনে ব্যবহৃত রূপালি রঙের মাইক্রা গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ঘাতকরা ভিনরাজ্যের পেশাদার শার্প শ্যুটার কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের জালে তুলতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি স্পেশাল টিম (SIT) ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে পৌঁছেছে। সেখানে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় গোপন ডেরায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৪১ বছর বয়সী চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী এবং শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহচর। গত বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় তাঁর চলন্ত গাড়ি আটকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তিনবার গুলি করা হয়। এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা’ বলে দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে, অপরাধীদের খোঁজে ভিনরাজ্যে পুলিশের এই দৌড় এবং ইউপিআই-এর ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ হাতে আসায় মনে করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই এই চাঞ্চল্যকর খুনের রহস্য উন্মোচিত হবে।





