আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে বাংলার জয়যাত্রা অব্যাহত! পুরুলিয়ার মেয়ে অনুপর্ণা রায় ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৮২তম সংস্করণে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন। তার পরিচালিত সিনেমা ‘সং অফ ফরগটেন ট্রিজ’ (Songs of forgotten Trees) জন্য তিনি এই বিরল সম্মান পেলেন। ভেনিস ফেস্টিভ্যালের ‘অরিজন্টি’ বিভাগে তার এই অসামান্য সাফল্যে গোটা টলিউড উচ্ছ্বসিত।
অনুপর্ণা রায়ের এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন টলিউডের একাধিক তারকা ও পরিচালক।
পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় অনুপর্ণাকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেন, “একজন বাঙালি এতো বড় এক মঞ্চে সর্বোচ্চ পুরস্কার পেলেন, এটা অবিস্মরণীয় ও আবেগের।”
অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, “যখন আমরা বাংলা সিনেমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য লড়াই করছি, তখন একজন বাঙালি মেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মাথা উঁচু করল।”
অভিনেতা ঋদ্ধি সেন তার ফেসবুক পোস্টে অনুপর্ণাকে ‘সময়ের পুরস্কারে ভূষিত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যখন নিজেদের অহংকার, মেমে আর মহানায়ক সম্মানে ভূষিত করতে থাকি, তখন অনুপর্ণা রায়ে ভূষিত হোক সময়ের পুরস্কারে যা থেকে যাবে ভয়মুক্ত ইতিহাসের পাতায়।”
পুরুলিয়া জেলার নেতুড়িয়া থানার নারায়ণপুরের বাসিন্দা অনুপর্ণা রায় ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি অভিনয়ের জগতে পা রাখেন অনুপম খেরের ইনস্টিটিউটে। সেখানেই তার মনে চলচ্চিত্র পরিচালনার বীজ অঙ্কুরিত হয়। তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের সিনেমা ‘সং অফ ফরগটেন ট্রিজ’, যা দুই অভিবাসী নারীর গল্প নিয়ে নির্মিত। এই ছবিতে মুম্বাই শহরের ব্যস্ততার মাঝে নিঃসঙ্গতা এবং মানবিক সম্পর্কের এক নিপুণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণের সময় সাদা শাড়িতে মঞ্চে উঠে অনুপর্ণা তার এই অসাধারণ মুহূর্তটিকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই সম্মান আমি উৎসর্গ করছি প্রতিটি নারীর প্রতি, যাদের কণ্ঠস্বর দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে গিয়েছে।” ফরাসি পরিচালক জুলিয়া ডুকুরনো, যিনি ‘অরিজন্টি’ বিভাগের জুরি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, অনুপর্ণার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।